
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি
কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে অতর্কিত হামলা, জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে পুলিশ—দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সর্বমহলে
ফেনী শহরে কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ ঘটনায় শহরের আলোচিত দীঘির পাড় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস হামলায় ফেনী সরকারি কলেজের ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।এ ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের লাগামহীন দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি উঠেছে।ভিকটিমের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কোচিং শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে ওই শিক্ষার্থী শহরের দীঘির পাড় এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিল। এ সময় সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য তাদের ডেকে নেয়।কথিত ‘ইগোতে’ আঘাত লাগাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের পূর্ব বিরোধ ছাড়াই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হঠাৎ করে ওই শিক্ষার্থীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভিকটিমের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা ৩ থেকে ৪ জন ছিল এবং তারা তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে।পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে যান।স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলায় জড়িতদের মধ্যে কেউ হাজারী কলেজের শিক্ষার্থী, কেউ ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এবং কেউ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নয়।দীর্ঘদিন ধরেই তারা দীঘির পাড় এলাকায় আড্ডা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও সহিংস কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।এলাকাবাসী জানান, দীঘির পাড় বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই সেখানে মারধর ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন,ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে এবং কয়েকজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই অভিযানে নামা হবে।”
তিনি আরও বলেন,কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে।কোনো শিক্ষার্থী যদি অপরাধে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও অবহিত করা হবে।ফেনী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, কিশোর অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং দীঘির পাড়সহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল বৃদ্ধি করা হবে।এই নৃশংস হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা সংস্থা–এর নেতৃবৃন্দ।সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব আবুল কাশেম এক বিবৃতিতে বলেন,একজন শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে হামলার শিকার হওয়া আমাদের সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য চরম লজ্জাজনক।অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা সংস্থা ফেনী শাখার জেলা আঞ্চলিক পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হানিফ বলেন,
“কিশোর গ্যাং এখন সমাজের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।তিনি আরও বলেন,নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে আমাদের সংগঠন সার্বিক সহযোগিতা করবে।
সর্বমহলের দাবি এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কলেজ থেকে বহিষ্কার এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।তাদের মতে, এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়বে।
সর্বমহলের একটাই দাবি—কোনোভাবেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া যাবে না।