
উজ্জ্বল চন্দ্র মন্ডল,
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেপরোয়া গতির একটি বাস ইজিবাইককে চাপা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা অভিমুখী সার্বিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। ঘটকচর এলাকায় পৌঁছালে বাসটি একটি চলন্ত ইজিবাইককে সজোরে চাপা দেয় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়।ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের তিন যাত্রীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আরও তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা।
দুর্ঘটনায় নিহত ৮ জনের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: রুমানা (২৫): কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকার শাহ-আলমের মেয়ে। পান্নু মুন্সি (৫০): মাদারীপুর কলেজ রোড এলাকার নেছারুদ্দিন মুন্সির ছেলে। সাগর বেপারী (৩২): কুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জসিম বেপারীর ছেলে (ইজিবাইক চালক)।বাকি নিহত পাঁচজনই নারী, যাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এই ঘটনার ফলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দুপাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে।
মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকায় বর্তমানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।