
মোঃ আলমগীর কবির নাটোর জেলা প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমি মালিকানা বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর আহম্মেদপুর বাজার এলাকায় প্রায় ৩৩ শতাংশ জমির ক্রয়-বিক্রয় ও দখল সংক্রান্ত বিরোধ ঘিরে দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নিলে স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ববর্তী মালিকপক্ষ তাদের দাবি করা জমি উদ্ধারের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় এক মাস আগে সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকদের নির্ধারিত অংশে সীমাবদ্ধ থেকে অবশিষ্ট জায়গা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে দোকান মালিকরা স্বেচ্ছায় দোকানপাট বন্ধ করে তালা লাগান এবং বিষয়টির দায় প্রতিপক্ষের ওপর আরোপ করেন।২৯ ডিসেম্বর সকালে দোকানের তালা খোলা ও জমির দখল নিয়ে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন বাজার এলাকায় জড়ো হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেন। তাদের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষই আইন নিজের হাতে না নিয়ে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সম্মত হন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।জানা গেছে, আহম্মেদপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নওপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, কোরবান আলী, শাহ আলম ও মোতালেব হোসেনের মধ্যে কয়েক শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং এর আগে একাধিকবার স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ও কার্যকর আইনি সমাধান না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের সক্রিয় তদারকি ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, সম্প্রতি একই বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি দোকান দখল সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসব বিষয় নিয়ে যুগান্তর, নয়া দিগন্ত, এশিয়া বাণীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত এই জমি বিরোধে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দখলদারিত্বের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা এলাকার স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।