
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান,রাজশাহী
শীতল সকালের নরম কুয়াশা ভেদ করে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস নিয়ে যাত্রা শুরু। গন্তব্য উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জেলা বগুড়া। লক্ষ্য একটাই—দৈনন্দিন সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততা ও পেশাগত চাপ কিছুক্ষণের জন্য ভুলে সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানো।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বগুড়ার সুপরিচিত বিনোদন কেন্দ্র ‘মম ইন’ পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের বার্ষিক পারিবারিক মিলনমেলা-২০২৬। দিনব্যাপী এই আয়োজন পার্ক প্রাঙ্গণকে পরিণত করে উৎসবের মিলনকেন্দ্রে। হাসি, আড্ডা, খেলাধুলা ও বনভোজনের মধ্য দিয়ে কাটে পুরো দিন।১০২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব পারস্পরিক ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় রাখতে নিয়মিতভাবে এই মিলনমেলার আয়োজন করে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ক্লাবের সদস্যদের পাশাপাশি তাঁদের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও হৃদ্যতাপূর্ণ।সকাল থেকেই পার্কে ছিল উৎসবের আমেজ। শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকায় তারা আনন্দে মেতে ওঠে। অন্যদিকে প্রবীণ ও তরুণ সদস্যরা গল্প, আড্ডা ও পুরোনো স্মৃতিচারণে সময় কাটান। কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে সবাই যেন একে অপরের সান্নিধ্যে খুঁজে পান মানসিক প্রশান্তি।দুপুরে বনভোজন শেষে বিকেলে আয়োজিত হয় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল ও সময়সাপেক্ষ পেশা। নিরবচ্ছিন্নভাবে খবরের পেছনে ছুটতে গিয়ে পরিবার ও ব্যক্তিজীবনের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের পারিবারিক আয়োজন সহকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক কাজী শাহেদ। তিনি বলেন, রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে যে আন্তরিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই সংগঠনের প্রতিটি সদস্য একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেন, যা অন্যান্য সংগঠনের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বলেন, এই মিলনমেলা কেবল আনন্দ বিনোদনের আয়োজন নয়; বরং এটি সহকর্মীদের মধ্যে পেশাগত দূরত্ব কমিয়ে ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে। একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাবই পারে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে।আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার যে দৃষ্টান্ত রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব স্থাপন করেছে, তা দেশের সাংবাদিক সমাজে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ, সাধারণ সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিকেলের পড়ন্ত রোদ আর সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় এই মিলনমেলা। তবে সবার মনে রয়ে যায় আনন্দ, ভালোবাসা আর স্মৃতিতে ভরা এক অনন্য দিনের অনুভূতি।