
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি
❝ভোট দিবো কিসে—ধানের শীষে❞ স্লোগানে মুখর পাইলট স্কুল মাঠ ফেনীতে জনতার উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি পাইলট স্কুলের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসমাবেশে তিনি বলেন, “ইনশাল্লাহ জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ফেনীর উন্নয়ন হবে দৃশ্যমান, টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী।”তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ফেনী শহর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। শহরের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে পাইলট স্কুল মাঠ পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে জনসমাবেশটি রূপ নেয় এক বিশাল রাজনৈতিক মিলনমেলায়।জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব শেখ ফরিদ বাহার এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জনাব আলাল উদ্দিন আলাল।সমাবেশে ফেনী ও নোয়াখালীর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে গোটা ফেনী শহর হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও মুখর।সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব উদ্দিন, নোয়াখালীর শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা জয়নাল আবদিন, ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল আওয়াল মিন্টু, ফেনী-২ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, ফেনী-১ আসনের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মজনুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বহু নেতৃবৃন্দ।সমাবেশে ফেনীবাসীর পক্ষে প্রধান অতিথির কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উপস্থাপন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। দাবিগুলো হলো—
১) ফেনীতে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন
২) একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
৩) ফেনী লালপোল বাইপাসে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “ফেনী ও নোয়াখালীর সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি আমার আলাদা দায়বদ্ধতা আছে। ফেনীর মানুষের ভালোবাসা আমি কখনো ভুলবো না।”
তিনি আরও বলেন, “ইনশাল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিএনপি ক্ষমতায় এলে ফেনীতে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
পাশাপাশি সারা দেশে হেলথ কেয়ার পল্লি চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে গ্রামাঞ্চলের নারী ও শিশুরা সহজে প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে পারে।”
তারেক রহমান পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা চালুর ঘোষণাও দেন। তিনি বলেন, “এই কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য, খাদ্য ও মৌলিক সেবা সহজে পাবে।”
ভোট প্রসঙ্গে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “১১ তারিখ রাত ৩টায় তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবেন, ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন। ভোট বুঝিয়ে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরে যাবেন।”
তার বক্তব্য শেষ হতেই মাঠজুড়ে ধ্বনিত হয় স্লোগান—
“ভোট দিবো কিসে—ধানের শীষে”,
“তারেক রহমান এগিয়ে চলো—আমরা আছি তোমার সাথে”।
সমাবেশ শেষে জনতার ঢল ফেনী শহরের বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। দিনভর স্লোগান, মিছিল ও মানুষের উচ্ছ্বাসে পুরো ফেনী শহর পরিণত হয় এক বিশাল রাজনৈতিক উৎসবে।