মোহাম্মদ নাসির মিয়া, বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের বাসাইলে গলা টিপে গৃহকর্তা এবং তার স্ত্রীকে হত্যা করে ঘরে রাখা সর্বস্ব লুট করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মৌসুমী ধান রোপনের শ্রমিকের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ জানুয়ারী) রাত আনুমানিক দুইটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গোষাখালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহকর্তার নাম মোতাহার সিকদার ঠান্ডু (৭৭) এবং তার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৭৩)। নিহত দম্পতির দুই ছেলে এবং দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পারিবারিক তথ্যমতে অভিযুক্ত মৌসুমী কৃষি শ্রমিক সুমন (৪৫) ভূঞাপুর এবং শরিফ (৬৫) রংপুরের শ্রমিক বলে জানায়ায়। হাবলা ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।সহকারী পুলিশ সুপার এবং নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, ২৪ জানুয়ারী মৌসুমী শ্রমিক বিক্রির হাট পাশ্ববর্তী করটিয়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে গৃহকর্তা ঠান্ডু সিকদার বোরো ধান রোপনের জন্য দুইজন শ্রমিক কিনে আনেন। একদিন কাজ করার পর সোমবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে পাশ্ববর্তী ঘরের বারান্দার কক্ষের দরজার পাশের টিন কেটে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে তারা। মুলঘরে প্রবেশ করে গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যাকরে এবং ঘরে থাকা ষ্টিলের আলমারী ভেঙ্গে টাকা পয়সাসহ দামী জিনিষপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় তারা ঘরের আসবাবপত্র এদিক সেদিক ছড়িয়ে রেখে যায়। নিহতের প্রবাসীপুত্রের স্ত্রী প্রতিদিনের মতন তাদের ডাকতে আসে। কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দিকে এগিয়ে যায় এবং বারান্দার দরজার পাশের টিন কাটা দেখতে পায়। এসময় ওই শ্রমিকদের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায় ওই গৃহবধূ। নিহতের নাতী শাকিল সিকদার বলেন, আমি প্রতিদিনই অনেক রাত পর্যন্ত মোবাইল ফোন চালাই। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাদেরকে বাহিরে বের হতে দেখে জিজ্ঞেস করি কোন সমস্যা হয়েছে কিনা? টয়লেটে গিয়েছিলো বলে তারা জবাব দেয়। পরে আমি নিজের ঘরে শুয়ে পড়ি এবং সকালে আমার মায়ের ডাকশুনে ঘটনা দেখতে পাই।এবিষয়ে তদন্তে আসা সখিপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার একে এম মামুনুর রশিদ বলেন, করটিয়া থেকে শনিবার দু'জন শ্রমিক নিয়ে আসেন ঠান্ডু মিয়া। এই দু'জন লোক সকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছিলো না এবং গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীর মৃতদেহ ঘরেই পড়েছিলো। ময়না তদন্তের জন্য তাদের বডি মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, বডি পোষ্টমর্টেম করার জন্য প্রেরণ করেছি। অভিযোগ পাওয়ার পরে আমরা মামলা রেকর্ড করবো। ঘটনার বিষয়ে আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করেছি। প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬