
আজিজুল হাকিম লামা (বান্দরবান)
বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রকাশ্যেই কেটে ফেলা হয়েছে একটি বড় পাহাড়। ৩নং ফাসিয়াখালি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পোড়ার ঝিরি রাস্তার পাশের পাহাড়টি প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় সম্পূর্ণভাবে কেটে শেষ করা হয়েছে। এতে মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হলেও বিষয়টি দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করছেন সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামা উপজেলার ৩নং ফাসিয়াখালি ইউনিয়নের পোড়ার ঝিরি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই পাহাড়টি সম্পূর্ণভাবে কেটে ফেলা হয়, যার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু ক্ষমতাশীল ব্যক্তির প্রত্যক্ষ মদদে ও প্রভাব খাটিয়ে এই পাহাড় নিধনের কাজটি নির্বিঘ্নে চালানো হয়েছে। পাহাড় কাটার সময় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, বন আইন কিংবা প্রশাসনিক কোনো অনুমতির তোয়াক্কা করা হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। কেউ বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন, আবার কেউ স্পষ্টভাবে কোনো বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়ে তুলেছে। পাহাড় কাটা বন্ধে সরকারের কঠোর নির্দেশনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন থাকলেও লামা উপজেলায় একের পর এক পাহাড় কেটে ফেলার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে, নষ্ট হচ্ছে বনজ সম্পদ, হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল থাকায় প্রভাবশালীরা সুযোগ নিয়ে পাহাড় ধ্বংস করছে। এখনই কার্যকর অভিযান না চালানো হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। এলাকাবাসী অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান, দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবেশ রক্ষায় স্থায়ী নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।