
এম,এ,মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার,নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
রাজনীতি একটি মতাদর্শিক ও গণতান্ত্রিক চর্চা। এখানে ভিন্নমত থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত নীতি, আদর্শ ও কর্মসূচির মাধ্যমে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য অগণতান্ত্রিক ও নৈতিকতাবিবর্জিত পথ বেছে নেওয়া হয়।পোস্টার ছেঁড়া তারই একটি নগ্ন উদাহরণ। এটি কোনোভাবেই বীরত্বের পরিচয় নয়; বরং এটি মানসিক দৈন্যতা ও হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ।সম্প্রতি নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শালবাড়ী বাজার রাস্তায় ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে এসব পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ পোস্টার ছেঁড়া শুধু একটি দল বা প্রতীকের ক্ষতি নয়, এটি একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর আঘাত।গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রত্যেক রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর নিজ নিজ মত প্রকাশ এবং প্রচারণা চালানোর অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার হরণ করার মানে গণতন্ত্রের মূল চেতনার বিরোধিতা করা। যারা রাতের আঁধারে পোস্টার ছেঁড়ে, তারা আসলে প্রমাণ করে যে তাদের হাতে যুক্তি নেই, আদর্শ নেইআছে শুধু ভয় ও অসহিষ্ণুতা। শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান কখনোই ভাঙচুর বা নাশকতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না।পোস্টার ছেঁড়ার মতো কাজ তরুণ সমাজের জন্যও একটি নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে তারা শিখছে যে মতভিন্নতা মোকাবিলা করতে হলে যুক্তি নয়, বরং শক্তি ও ধ্বংসই পথ।এই মানসিকতা দীর্ঘমেয়াদে সমাজকে সহিংসতা ও বিভেদের দিকে ঠেলে দেয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।আমাদের মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে হলে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হয় পোস্টার ছিঁড়ে নয়, কর্ম দিয়ে।তাই এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।একই সঙ্গে সকল রাজনৈতিক দল ও কর্মীদের উচিত সংযম ও সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া।পরিশেষে বলা যায়,পোস্টার ছেঁড়া কোনো বীরত্ব নয়, এটি দুর্বলতারই নামান্তর। সুস্থ রাজনীতি গড়ে তুলতে হলে সহাবস্থান, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান করাই একমাত্র পথ।