
কাজী আহসানুল হাবীব জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
গাজীপুরের কালীগঞ্জে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে শীর্ষ ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত মিঠু পাঠানসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহৃত এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে পৃথক ঘটনায় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ইয়াবাসহ আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে, প্রাণ আরএফএল কোম্পানির ছুটি শেষে বাসায় ফেরার পথে মোঃ হক সাব (২৪) নামের এক যুবক কালীগঞ্জ থানাধীন মূলগাঁও এলাকায় ৩ নম্বর গেইটের সামনে পৌঁছালে, একদল দুর্বৃত্ত তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। পরে তাকে মূলগাঁও চৌকিদারবাড়ির পেছনের কাঠ বাগানে নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
ভিকটিমের কাছ থেকে নগদ ৪ হাজার টাকা নেওয়ার পরও অপহরণকারীরা আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে ভিকটিমকে দিয়ে তার স্ত্রীকে ফোন করিয়ে বিকাশে টাকা পাঠাতে বলা হয়। বিষয়টি জানার পর ভিকটিমের স্ত্রী কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম, এসআই মাসুদ রানা শামীমসহ তাদের সংগে থাকা পুলিশফোর্স, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
৩০ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ২টার দিকে দেওপাড়া এলাকায় সেভেন রিংস কোম্পানির ৫ নম্বর গেইটের সামনে থেকে জাহিদ হাসান তামিম (১৯) ও সাগর (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে মিঠু পাঠান (৪০) ও কনক মিয়া (২১)-কেও গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা নং–৩২, তারিখ ৩১/০১/২০২৬, দণ্ডবিধির ৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মাসুদ রানা শামীম গ্রেফতারকৃত আসামীদের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করেছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মিঠু পাঠানের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি, অপহরণ ও মাদকসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। অপর আসামী কনক মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি ও অপহরণের ৩টি মামলা রয়েছে।
এছাড়া পৃথক অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী সানি মিয়া (২২) ও জাহিদুল (২৬)-কে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাদের প্রত্যেককে ৩ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।
পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে, জানিয়েছে পুলিশ প্রসাশন।