পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি মোঃ রুবেল হোসেন
পটুয়াখালী বাউফলে আওয়ামী লীগ নেতা ও নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পলাতক চেয়ারম্যান মো. শাহজাদা হাওলাদারের বিএনপিতে যোগদানের গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান, রাজনৈতিক কার্যালয় ও সাধারণ মানুষের আড্ডায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে,।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. শাহজাদা হাওলাদার বাউফল উপজেলা শ্রমিক লীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এই নেতা হঠাৎ করে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। উত্তপ্ত হচ্ছে নওমালা ইউনিয়নের পরিবেশ,।
নওমালা ইউনিয়নের একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ারম্যান শাহজাদাকে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করতে দেখা গেছে। এমনকি কয়েকদিনের মধ্যে নওমালায় বিএনপির একটি প্রোগ্রাম হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিবে বলে জানিয়েছেন ওই নেতারা,।
এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “শাহজাদা ভাই দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। হঠাৎ করে তার বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ আমাদের জন্য বিস্ময়কর। বিষয়টি সত্য হলে তা দলের জন্য বড় ধাক্কা হবে। এমনকি বেইমানি হবে। আর আওয়ামী লীগের খারাপ সময়ে বিএনপিতে যোগদান করা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।”
অন্যদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটি স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগের এক সময়ের প্রভাবশালী ও বর্তমানে পলাতক থাকা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাদা হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নওমালার ইউপি চেয়ারম্যান ও বাউফল উপজেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব মো. শাহজাদা হাওলাদার । তিনি একাধিকবার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক বিরোধের ঘটনায় খবরের শিরোনাম হয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের আমলে তার একটি অবস্থান ছিল।
এ বিষয়ে মো. শাহজাদা হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যা শুনেছেন তা সত্য। তবে এটা নিয়ে লেখালেখির দরকার নাই।আমি বিএনপিতে যোগ দিচ্ছি এটা সত্য। আগামীকাল বাড়িতে আসতেছি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় রাজনীতিতে পুনর্গঠন ও মেরুকরণ জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের অবস্থান পরিবর্তনের গুঞ্জন ছড়ানো নতুন কিছু নয়। তবে প্রভাবশালী কোনো নেতার দলবদলের সম্ভাবনা থাকলে তা এলাকায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কিছু দুর্বৃত্তচক্র ও চিহ্নিত অপরাধী অর্থাত অসংখ্য মামলা থাকা আওয়ামী নেতারা মাথাচাড়া দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের ভাষায়, “ভোটকে কেন্দ্র করে কিছু ‘ডেভিল’ গর্ত থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের খাচায় ভরতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”
তারা আরো বলেন, “কোনো ডেভিল যদি গর্ত থেকে বের হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাঠে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড থেকে শুরু করে ডিজিএফআই, এনএসআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা ততপড়তা জোরদার করা হয়েছে। অতীতে যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের প্রত্যেকের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সব মিলিয়ে, মো. শাহজাদা হাওলাদারের দল পরিবর্তন সংক্রান্ত গুঞ্জন সত্য হোক বা না হোক, তা বাউফলের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি কোন অবস্থান নেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬