
“বংশানুক্রমিক রাজনীতি আর চলবে না”—রাজশাহীতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
অপু দাস,ব্যুরো প্রধান,রাজশাহী।
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশে বংশানুক্রমিক পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি আর চলবে না।
তিনি বলেন, “এই দেশে রাজার ছেলে রাজা হবে—এ ধরনের রাজনীতি আর চলতে দেওয়া হবে না। রাজনীতি হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। রাজনীতি হবে দেশপ্রেমের প্রমাণের মাধ্যমে।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “এই দেশে আর কখনো আধিপত্যবাদের রাজনীতি চলবে না। আমাদের প্রতিবেশীসহ সকল দেশের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক থাকবে। তবে সেই সম্পর্ক হবে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। অমর্যাদাকর সম্পর্ক আমরা কোনো দেশের সাথেই চাই না। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।”
তিনি বলেন, “সেদিন আমাদের সোনার ছেলেরা গুলিকে পরোয়া করে নাই। দেশের জন্য তারা জীবন বাজি রেখে দাঁড়িয়েছিল।”
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের বার্তা
জামায়াত আমির বলেন, “আমরা সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই। আল্লাহর বিধান কারো উপর কখনো জুলুম করতে পারে না—জুলুম করার প্রশ্নই উঠে না।”
তিনি বলেন, “এই দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ আছে। নারী-পুরুষ সবাই আছে। এদেশে বহু নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। আমাদের সাঁওতাল ভাই-বোনেরাও আছেন। আমাদের সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশ।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেবো না। আমরা ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমাদের ১১ দলের স্লোগান হচ্ছে—‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’।”
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
তিনি বলেন, “আমরা আল্লাহর দরবারে ওয়াদাবদ্ধ এবং জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। জনগণের রায়ের মাধ্যমে, ভোটের মাধ্যমে, ভালোবাসার মাধ্যমে আল্লাহ যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেবো না।”
তিনি আরও বলেন, “ইনশাআল্লাহ এই দেশে কারো দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।”
রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে প্রতিশ্রুতি
বক্তব্যে তিনি রাজশাহীর বিভিন্ন উন্নয়ন ইস্যু উল্লেখ করে বলেন, রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, সুগার মিল পুনরুজ্জীবিত করা, ডেন্টাল কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
জামায়াতের আয়োজনে রাজশাহীতে ইতিহাসে প্রথম নারী-পুরুষের বড় সমাবেশ
এদিনের জনসভাটি ছিল রাজশাহীর রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, এই প্রথম রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে এত বড় নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হলো।
দুপুরের মধ্যেই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠজুড়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
আগে বিভিন্ন জেলায় জনসভায় বক্তব্য
জনসভা শুরুর আগে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ জেলার নির্বাচনী জনসভাতেও বক্তব্য দেন বলে জানানো হয়।