
আব্দুর রহিম কলারোয়া উপজেলা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সামনে রেখে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ১০ নং কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাত্র চার দিন বাকি থাকতেই জামায়াতের কর্মী মোঃ আনারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটারদের ওপর জোরপূর্বক ক্ষমতা অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নারীদের সাথে খারাপ আচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোঃ আনারুল ইসলাম বিভিন্ন সময় লাঠি,দা ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভোট না দিলে ঘরবাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিচ্ছেন।তিনি প্রকাশ্যে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং বিশেষ করে নারী ভোটারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।একপর্যায়ে বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।যদিও পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো ভয় কাজ করছে।এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় কলারোয়া উপজেলা ফুটবল মাঠে এক সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোঃ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।কিন্তু ওই বক্তব্য শেষ হতে না হতেই রাতের বেলায় মোঃ আনারুল ইসলাম পুনরায় এলাকায় জোরপূর্বক ক্ষমতা প্রয়োগ শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, শুধু তিনি একাই নন তার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ব্যবহার করে সাধারণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা, হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।সরকার ও নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা, কলারোয়া, তালা, মুন্সিগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় সহিংসতার আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।এসব এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির পক্ষ থেকে ভোট বন্ধের চেষ্টা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা আসনগুলোতেও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের শঙ্কা রয়েছে। কিছু এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের তথ্যও রয়েছে গোয়েন্দাদের হাতে।এসব ঝুঁকি মাথায় রেখে নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। ভোট কেন্দ্রগুলোকে আনা হয়েছে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির আওতায়।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন,অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।