
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান রাজশাহী
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সন্ত্রাস দমন, সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ছিনতাই ও ডাকাতি দমনসহ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় র্যাব-৫ এর একটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্র আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সহিংসতা সৃষ্টি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কিংবা জনমনে আতঙ্ক তৈরির উদ্দেশ্যে মজুদ করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।র্যাব-৫ সূত্রে জানা গেছে, সিপিএসসি, র্যাব-৫ এর একটি দল গত ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে ২৩টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী জেলার বাগমারা থানাধীন বইকুড়ি সরদারপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে একটি স্থানে গোপনে রাখা বিভিন্ন ধরনের মোট ৫৬টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—ছুরি: ১৬টি চাপাতি: ৪টি হাসুয়া: ৪টি কুঠার সদৃশ টাঙ্গি: ৩২টি র্যাব জানায়, অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত আলামতগুলো স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসমূহ বাগমারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ কে ঘিরে কোনো একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এসব দেশীয় অস্ত্র মজুদ করে রাখতে পারে। নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, আধিপত্য প্রতিষ্ঠা অথবা সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই এই অস্ত্রগুলো গোপনে সংরক্ষণ করা হয়েছিল এমন সন্দেহ করা হচ্ছে।এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র সেখানে মজুদ করা হয়েছিল তা নিশ্চিত হতে র্যাব-৫ এর গোয়েন্দা কার্যক্রম ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর উৎস, মজুদের পেছনের পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রমও চলছে।র্যাব-৫ আরও জানায়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ জনগণের জানমাল রক্ষায় তাদের নিয়মিত অভিযান আগামীতেও চলমান থাকবে। অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।