
মোঃ আলমগীর কবির বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিশাল গণসংযোগ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।এতে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।গণমিছিলটি বনপাড়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।গণসংযোগে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মোঃ আব্দুল হাকিম সকল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।তিনি বলেন,সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে মুসলমানসহ সকল ধর্মাবলম্বী,বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য, অবহেলা বা বঞ্চনা ছাড়াই সবাই যেন তাদের ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।তিনি আরও বলেন, একটি সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের জন্য ভিন্ন মত ও ভিন্ন আদর্শের মানুষের প্রতিও সম্মান, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি সহনশীল আচরণ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মতের পার্থক্য থাকলেও সকলকে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়তা ও তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন এবং সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জনগণের সামনে তুলে ধরেন। তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে চান। এজন্য তিনি সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা, সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন।গণসংযোগ ও গণমিছিলে ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবং অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের সমর্থন প্রকাশ করেন।স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা, ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি সহনশীলতার আহ্বান এবং সাংবাদিকদের সহায়তায় তহবিল গঠনের ঘোষণা কর্মসূচিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।