
অপু দাস রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী মহানগরের রেলগেট থেকে কাশিয়াডাংগা পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশে অবৈধ দখল আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে উঠেছে। রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা দোকানপাট, স্থাপনা ও অস্থায়ী বসতির কারণে ট্রেন চলাচল ও রেলক্রসিং এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে যানবাহন চালকদের দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে রেলক্রসিংয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়রা জানান, রেললাইনের পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠা দোকান ও স্থাপনাগুলো অনেক জায়গায় রেলপথের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে ট্রেন আসার সময় গাড়িচালক কিংবা পথচারীরা অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকে ট্রেনের অবস্থান বুঝতে পারেন না। আবার কোথাও কোথাও দোকানপাটের কারণে রেলক্রসিংয়ের আশপাশে যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
গ্যাস সিলিন্ডারবাহী গাড়ির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ
বুধবার সকালে রাজশাহীর পাঠার মোড় এলাকায় একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী গাড়ির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। তবে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলেন, যদি ওই সময় আশপাশে বেশি মানুষ থাকত, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। দুর্ঘটনার পর অনেক সময় ট্রেন চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
আগেও ঘটেছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা
স্থানীয়দের দাবি, পাঠার মোড়সহ রেলগেট থেকে কাশিয়াডাংগা পর্যন্ত এলাকায় আগেও একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কিছু দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু প্রতিবারই সাময়িক আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
যোগসাজশের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল ও ব্যবহার করতে দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী এবং রেলওয়ের অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকার বিনিময়ে রেলওয়ের জমি দখল করতে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও অবৈধভাবে জায়গা “বিক্রি” করার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এই অবৈধ দখলের কারণে শুধু রেলওয়ের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে না, একই সঙ্গে মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
দ্রুত উচ্ছেদের দাবি
এলাকাবাসী দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ, রেললাইনের পাশ পরিষ্কার রাখা, রেলক্রসিংয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, কেবল নোটিশ দিয়ে বা আশ্বাস দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। কার্যকর অভিযান চালিয়ে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।
রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে রাজশাহী রেলের জিএম ফরিদ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অবৈধ দখল উচ্ছেদে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন,
“আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। রাজশাহী সিটি এলাকার অবৈধ দোকানপাট খুব শিগগিরই উচ্ছেদ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, শহরের ভেতরে অবৈধ দখলের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হবে এবং দ্রুত উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে রাজশাহীর বাইরের এলাকাগুলোতেও উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
নিরাপদ রেলপথ নিশ্চিতের দাবি
স্থানীয়দের মতে, রেললাইনের আশপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকে যাবে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত করে রেলপথকে নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন।