
আমগাছে শোভা পাচ্ছে নতুন মুকুল হারাধন চক্রবর্তী, স্টাফ রিপোর্টার,মিরসরাই, চট্টগ্রাম।
মীরসরাই উপজেলায় গাছে গাছে আমের মুকুল জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী
চট্টগ্রামের মীরসরাই বিভিন্ন আমের বাগান কিংবা বসতবাড়ির আশপাশের আম গাছে এখন শোভা পাচ্ছে মুকুল। কোন গাছ মুকুলে ভরে গেছে, আবার কোন কোন গাছে মুকুল বের হতে শুরু করছে। চারিদিকে মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ মুগ্ধতা ছড়িয়ে আগাম জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ছোট বড় বেশ কয়েকটি আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে শুধুই মুকুল আর মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মেলবন্ধন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। বাতাসে বইছে সেই মুকুলের সুবাসিত ঘ্রাণ। তবে পরিচর্যা ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে আমের ফলন। সঠিক পরিচর্যা এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের ভালো ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরা।
১১৫টি আম গাছ লাগিয়েছেন হাইতকান্দি ইউনিয়নের অজয় পাল।
তিনি বলেন, গাছে মুকুল আসার সময় গাছে পানি এবং স্প্রে করতে হয়। শুস্ক মৌসুমে পানি সংকটের কারণে নিয়মিত পানি দেয়া যাচ্ছে না। বিএডিসির মাধ্যমে যদি একটা ডিপ টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা যায় ভালো হবে। গত বছর যেসব গাছে মুকুল হয়নি, সেসব গাছে এবার পরিপূর্ণ মুকুল বের হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে বিগত বছরের তুলনায় এবার আমের ফলন ভালো হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাইয়ে ২৫ হেক্টর আম বাগান রয়েছে। ব্যক্তি-উদ্যেগে ২ হেক্টরে আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, ল্যাংড়া, গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমবাগান করেছেন কৃষকরা।
এছাড়া প্রতিটি গ্রাম গঞ্জের রাস্তার দ্বারে, পুকুর পাড়ে কিংবা বসতবাড়ির আশপাশে কমবেশি রয়েছে দেশীয় জাতের আম গাছ। এবার মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ছে এসব গাছগুলোও। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলোতে।
৮ বছর আগে শখের বশে বাড়ির পাশে হাড়িভাঙা, বারি-৪, আম্রপালি, ল্যাংড়াসহ ৩০টির মতো আম গাছ লাগিয়ে ছিলেন পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা ইমন চক্রবর্তী ।
ভালো ফলন ও পরিচর্যার বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের কোন ধরনের সহযোগিতা না পাওয়ায় ২০টির মতো গাছ মরে গেছে। বাকি গাছগুলোতে
ইতোমধ্যে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরও এক সপ্তাহ লাগবে বলে জানান তিনি । এ সময় বিভিন্ন পোকা মুকুলের ক্ষতি করে। এ পোকা দমনে বালইনাশক স্প্রে করতে হয়। সে বিষয়ে কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় নিজের মতো করে পরিচর্যা করছেন বলে জানান ইমন। তবে পোকা মাকড়ের উপদ্রব বা অন্য কোন সমস্যা দেখা না দিলে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, মুকুল থেকে ফুল ফোটার আগে একবার স্প্রে করতে হবে। ফোটার পর স্প্রে করলে ফুল ঝরে যায়। এরপর আম যখন মোটর আকৃতি বা মার্বেল আকৃতি হবে তখন ছত্রাকনাশক ঔষধ স্প্রে করলে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে না। এ ব্যপারে পরামর্শ প্রদানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন মাঠে রয়েছেন। এছাড়া সরকার প্রদত্ত যেসব কৃষি উপকরণ আসে তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়। কৃষকেরা যে কোন ধরনের পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। তিনি বলেন, আমের ফলন নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। তাই কৃষি অধিদপ্তর আশা করছে চলতি মৌসুমে মীরসরাইতে আমের ভালো ফলন হবে।কমর আলী ঠাকুর বাড়ীর আম গাছের চিত্র।