
মোঃ জিহাদ হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি, ভোলা সদর
রমজান কেবল আনুষ্ঠানিকতার মাস নয়, তাই প্রয়োজন মানসিক ও আমলি প্রস্তুতি।বছর ঘুরে আবার আমাদের দুয়ারে সিয়াম সাধনার মাস রমজান।এটি রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস।শরিয়তের আলোকে রমজানকে স্বাগত জানানোর ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো।১. ইবাদতের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি রমজানকে স্বাগত জানানোর প্রথম ধাপ হলো মানসিক প্রস্তুতি।রোজা ও তারাবিহসহ সব ইবাদতের প্রতি অন্তরে গভীর অনুরাগ তৈরি করা।
২.খাঁটি তওবা করা রমজানের বরকত লাভের শর্ত হলো হৃদয়কে গুনাহমুক্ত করা।তাই রমজান আসার আগেই বিগত দিনের সব অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করা জরুরি৩. চাঁদ দেখা ও দোয়া করা রমজানকে সরাসরি বরণ করার গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ হলো চাঁদ দেখা। চাঁদ দেখার পর রাসুলুল্লাহ (স.) নিরাপত্তা, ঈমান ও শান্তির মাসনুন দোয়া পড়তেন এবং শাহাবাদের পড়তে বলতেন।৪. আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্টা রমজানের মূল লক্ষ্য হলো ‘তাকওয়া’ অর্জন। তাই স্বাগত জানানোর অংশ হিসেবে কুপ্রবৃত্তি ও অহংকার দূর করে আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো উচিত। হাদিসের ভাষ্যমতে, যে ব্যক্তি রমজানে নিজেকে সংশোধন করতে পারল না, তার উপবাস থাকা নিরর্থ।৫. নেক আমলের অভ্যাস ও পরিকল্পনা রমজানের আগে থেকেই বেশি বেশি নেক আমলের অভ্যাস করা চাই। কোরআন তেলাওয়াত, উত্তম আচরণ, দান-সদকা ও জিকিরের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (স.) রমজানে অন্য সময়ের চেয়ে দান-সদকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন।৬. প্রয়োজনীয় মাসয়ালা শিক্ষা করা সঠিক পদ্ধতিতে ইবাদতের জন্য রোজা, সাহরি ও ইফতারের প্রয়োজনীয় মাসয়ালাগুলো আগেই জেনে নেওয়া জরুরি। দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। তওবা, নেক আমল ও আত্মশুদ্ধির সংকল্প নিয়ে আমরা যদি এই মাসকে বরণ করতে পারি, তবেই আমাদের সিয়াম সার্থক হবে। আল্লাহ আমাদের রমজানের পূর্ণ বরকত নসিব করুন। আমিন।