
আমজাদ হোসেন মিঠু জেলা প্রতিনিধি ,মুন্সিগঞ্জ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন বিএনপি’র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয় উল্লাসে মেতে না থেকে তিনি বেছে নিয়েছেন সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পথ।গত কয়েকদিনে তিনি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন, যা বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত।তারেক রহমান তাঁর এই জনসংযোগ শুরু করেছেন দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে।*ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: গতকাল তিনি চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের বাসভবনে যান।সেখানে তিনি পীর সাহেবের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবংদেশের আগামী দিনের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।* বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: এর আগে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেন। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে জামায়াতের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।*এনসিপি ও ছাত্র প্রতিনিধি: একই দিনে তিনি এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যান। ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে নাহিদ ইসলামের ভূমিকার প্রতি তিনি সম্মান প্রদর্শন করেন।’সবার আগে বাংলাদেশ’স্লোগানে নতুন প্রত্যাশা তারেক রহমানের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ থেকে বেরিয়ে আসার একটি শক্ত বার্তা হিসেবে। নির্বাচনের আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন “বাংলাদেশ গর্বে সবার আগে বাংলাদেশ”। বিজয়ী হয়েও প্রতিপক্ষকে দমন না করে তাদের সম্মান জানানো সেই স্লোগানকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ জনগণ।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের পর বিজয়ী দল যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে ব্যস্ত থাকে, তখন তারেক রহমানের বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বাসায় যাওয়া এক অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার।এটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমিয়ে আনবে এবং জাতীয় ঐক্যের পথ প্রশস্ত করবে।জনগণের প্রত্যাশা, যদি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্মান বজায় থাকে, তবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তারেক রহমানের এই দূরদর্শী নেতৃত্ব বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্নে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে।