
আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
পবিত্র মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি,সংযম ও তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণের মাস বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর টংঙ্গিবাড়ি উপজেলা শাখার উদ্যোগে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত স্বাগত মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।প্রধান অতিথি অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম বলেন,রমজান রহমত, বরকত ও মাগফেরাতে পরিপূর্ণ একটি মাস।তিনি বলেন, সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মসংযমের শিক্ষা গ্রহণ করে এবং আল্লাহভীতির পথে অগ্রসর হয়।তিনি আরও বলেন,রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়,বরং চিন্তা,কথা ও কাজের পবিত্রতার এক অনন্য শিক্ষা।রমজান মানুষকে মানবিক,সহনশীল ও পরোপকারী হতে উদ্বুদ্ধ করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন,এ মাসে দান-সদকা ও ইবাদতের মাধ্যমে মানুষের জীবনে নেমে আসে অফুরন্ত বরকত।রমজানের শেষ দশকে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।এই রাতে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন,রমজানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হবে।এ সময় তিনি দেশের নতুন সরকারের প্রতি শুভকামনা জানান।তিনি আশা প্রকাশ করেন,সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।সুশাসন,স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।গণতন্ত্র,মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার আন্তরিক ভূমিকা পালন করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।তিনি বলেন, অতীতের অগণতান্ত্রিক চর্চা যেন আর ফিরে না আসে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন মুন্সিগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল বারী।আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহিম অনুষ্ঠানে অংশ নেন।উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা কাজী ইকবাল হোসেন বক্তব্য রাখেন।এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।মিছিলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়।আয়োজকরা জানান, রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।তারা বলেন,রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারাউল্লেখ্য, অধ্যাপক ফজলুল করীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাবেক সিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।