
অপু দাস,ব্যুরো প্রধান রাজশাহী।
রাজশাহী নগরীতে ক্ষমতার চাকচিক্যের চেয়ে সাধারণ মানুষের সান্নিধ্যকেই বেশি গুরুত্ব দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। দায়িত্ব গ্রহণের পরও তাঁর চলাফেরায় আসেনি তেমন কোনো পরিবর্তন। সরকারি গাড়ি বা কঠোর প্রটোকলের বদলে এখনো তিনি ভরসা রাখেন সেই পুরোনো সঙ্গী—রিকশার ওপরই।
শনিবার সকালে নগরের ভদ্রা এলাকার বাসা থেকে প্রতিদিনের মতোই রিকশায় বের হন তিনি। দীর্ঘদিনের সঙ্গী রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস প্রায় এক দশক ধরে তাঁকে শহরের নানা প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছেন। সকালবেলার গন্তব্য ছিল সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট। সেখানে প্রাতর্ভ্রমণে বের হওয়া বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান, খোঁজখবর নেন, আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন।
এরপর তিনি সাহেববাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখান থেকে ফেরার পথে দড়িখড়বোনা এলাকার একটি সাধারণ সেলুনে যান চুল কাটাতে। জানা যায়, প্রায় চার দশক ধরে একই সেলুনে চুল কাটান তিনি। কাজ শেষে আবার রিকশায় চড়ে বাসায় ফেরেন।
রিকশায় যাতায়াতের পুরো সময়জুড়ে তাঁকে দেখা যায় হাসিমুখে পথচারীদের সালাম জানাতে। অনেকেই এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না।
মিজানুর রহমান মিনুর রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘ। ৩২ বছর বয়সে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং টানা ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত আছেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি রিকশায় চলাফেরার অভ্যাস বজায় রেখেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গণসংযোগ করেছেন রিকশায় চড়ে। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনেও সেই চেনা দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, একজন মন্ত্রী হয়েও তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে সাধারণ রিকশাতেই চলাফেরা করছেন—এতে তিনি গর্ববোধ করেন। অন্যদিকে ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না জানান, প্রটোকলের জন্য পুলিশ ও সরকারি গাড়ি প্রস্তুত থাকলেও মন্ত্রী সেগুলো গ্রহণ করেননি। তিনি আগের মতোই সাধারণভাবে মানুষের মাঝে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ক্ষমতার উচ্চ আসনে থেকেও সাধারণ জীবনের প্রতি এই টানই যেন মিজানুর রহমান মিনুকে রাজশাহীর মানুষের কাছে আলাদা করে চেনায়—রিকশার ঘণ্টাধ্বনিতে যার পরিচয়, সরলতায় যার শক্তি।