
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর মাঠের কাজের মধ্যে যে দূরত্ব সচরাচর দেখা যায়, তা ঘুচিয়ে দিতে মুন্সীগঞ্জ-০১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মোঃ আব্দুল্লাহর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সকাল ঠিক ৯টায় সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন তিনি।
দুর্নীতির দুর্গে হানা
দীর্ঘদিন ধরেই সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে অবহেলা, অনিয়ম এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের পাহাড়সম অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। কাউকে কিছু না জানিয়ে অত্যন্ত গোপনে হাসপাতালে প্রবেশ করেন এমপি আব্দুল্লাহ। তাঁর আগমনে হাসপাতালের অলস হয়ে বসে থাকা ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শুরু হয় হুড়োহুড়ি।
পরিদর্শনের মূল পর্যবেক্ষণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
* উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা: পরিদর্শনের শুরুতে এমপি মহোদয় হাজিরা খাতা পরীক্ষা করেন। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্বে অবহেলার দায়ে অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
* রোগীদের সরাসরি অভিযোগ: হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে রোগীদের সাথে কথা বলেন তিনি। রোগীরা নির্ভয়ে তাঁদের ক্ষোভ, সরকারি ওষুধ না পাওয়া এবং নার্সদের দুর্ব্যবহারের কথা সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরেন।
* দালাল নির্মূল অভিযান: হাসপাতালের প্রবেশপথে থাকা দালাল ও ব্রোকারদের দৌরাত্ম্য বন্ধে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন। হাসপাতাল চত্বরে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশের বিশেষ অভিযানের নির্দেশ প্রদান করেন।
* পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামো: হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেন এবং প্রতিটি বিভাগের ছোট-বড় সমস্যাগুলো নোট করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন।
“জনগণ পাশে থাকলে ভয় নেই”
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সংবাদমাধ্যম ও জনগণের উদ্দেশ্যে শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন:
> “মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে সেবা করার জন্য, ঢাকায় বসে এসি রুমে সময় কাটানোর জন্য নয়। সরকারি হাসপাতালে গরিব মানুষ সেবা পাবে না, ওষুধ চুরি হবে—এটা আমার এলাকায় হতে দেব না। আজ থেকে এই হাসপাতালের প্রতিটি ইঞ্চি আমার নজরদারিতে থাকবে।”
ইতিবাচক সাড়া ও জনমত
সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে এই ঝটিকা অভিযান ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধিই চেয়েছিলাম যিনি সরাসরি মাঠে এসে কাজ করবেন। এমপির এই সাহসী পদক্ষেপে এখন থেকে ডাক্তাররা সময়মতো আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
শুধু পরিদর্শনই নয়, সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি এলাকায় মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। মুন্সীগঞ্জ-০১ আসনের মানুষের কাছে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু— ‘শেখ মোঃ আব্দুল্লাহর অ্যাকশন’।