
মীর শাহীন ভোলা।
ভোলা জেলার তজুমদ্দিন থানা এলাকায় এক প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ০৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত একজন আসামি স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দী দিয়েছেন।
গত (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক ভুক্তভোগী নারী বাড়ি ফেরার পথে আসামীরা তাকে প্রলোভন দেখিয়ে অটো রিক্সায় উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তজুমদ্দিন থানাধীন ০৩নং চাঁদপুর ইউনিয়নের ০৫নং ওয়ার্ডস্থ শশীগঞ্জ এলাকার একটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানার মামলা নং-০৩, তারিখ-২৩/০২/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৯(৩) দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই ভোলা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার) এর প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), ভোলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের একাধিক টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ০৩ (তিন) জন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং ধর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করে।
জেলা পুলিশের সমন্বিত অভিযানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার এজাহারনামীয় ০১নং আসামী মোঃ রাকিব(৩০), ৩নং আসামী মোঃ জুয়েল(৩৫), থানা-তজুমদ্দিন, জেলা-ভোলা এবং তদন্তেপ্রাপ্ত অপর আসামী আল আমিন সম্রাট থানা-তজুমদ্দিন, জেলা-ভোলাকে তজুমদ্দিন থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এজাহারনামীয় ও তদন্তেপ্রাপ্ত গ্রেফতারকৃত আসামীরা মামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এজাহারনামীয় গ্রেফতারকৃত ০১নং আসামী মোঃ রাকিব(৩০) বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। অপর ০২ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ জন্য বিজ্ঞ আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন,ভোলা জেলা পুলিশ নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং আইনগত সহায়তায় বদ্ধ পরিকর। এই নেক্কারজনক ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী নারী ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ভোলা জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছে।