
ইমরান হক
গাজীপুর নির্বাচনী জয়ের পর চারদিকে যখন ফুলের জয়জয়কার, তখন গাজীপুর-২ আসনে দেখা গেল সম্পূর্ণ এক ব্যতিক্রমী ও পরিবেশবান্ধব চিত্র। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম মনজুরুল করিম রনি প্রথাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে কোনো ফুল বা মালা লাগবে না; বরং উপহার হিসেবে তিনি চান জীবন্ত ‘গাছের চারা’।
কেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চলুন বিস্তারিত জেনে নেই।
সম্প্রতি এমপি এম মনজুরুল করিম রনি তার ফেসবুক পেইজে একটি বিশেষ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি সমর্থকদের অনুরোধ জানান, যেন তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে অর্থ অপচয় না করা হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, ফুল ছিঁড়ে তোড়া বানিয়ে উপহার দেওয়ার চেয়ে একটি গাছের চারা রোপণ করা পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনেক বেশি ফলদায়ক। মূলত “সবুজ গাজীপুর” গড়ার লক্ষ্যেই তাঁর এই প্রশংসনীয় আহ্বান। এমপির ডাকে পেশাজীবী দলের শ্রদ্ধা ও সাড়া এমপির এই দূরদর্শী পোস্টকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সবার আগে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল। আমরা যেমনটি আগে দেখেছিলাম যে পেশাজীবী দলের নেতাকর্মীরা সবসময়ই ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন, ঠিক তেমনি এবারও তাঁরা নেতার ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
সাউথ এশিয়ান বা দেশীয় প্রেক্ষাপটে যেখানে ফুলের ঢল নামার কথা ছিল, সেখানে পেশাজীবী দলের নেতৃবৃন্দ এমপি রনিকে শুভেচ্ছা জানাতে হাতে তুলে নেন বিভিন্ন প্রজাতির ফলের ও ভেষজ গাছের চারা। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী উপহার প্রদানের দৃশ্যটি এলাকায় বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
পেশাজীবী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়:
“আমাদের নেতার প্রতিটি গঠনমূলক সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর এই ‘ফুল নয়, চারা চাই’ আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েই আমরা আজ চারা গাছ উপহার নিয়ে এসেছি। আমরা চাই এই গাছগুলো বড় হওয়ার সাথে সাথে আমাদের গাজীপুরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক।”
জনমনে বিশেষ প্রভাব একজন জনপ্রিয় এমপির এমন সচেতনতামূলক বার্তা এবং পেশাজীবী দলের তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার এই ঘটনাটি সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। অনেক সচেতন নাগরিক মনে করছেন, গাজীপুর-২ আসনের এই মডেল যদি সারা দেশের জনপ্রতিনিধিরা অনুসরণ করেন, তবে দেশ হবে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য।