রাসিক প্রশাসক নিয়োগ ঘিরে আলোচনা: তরুণ নেতৃত্বে আস্থা বাড়ছে নগরবাসীর
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা। সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে একাধিক অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও তৃণমূল নেতাকর্মী ও নগরবাসীর একটি বড় অংশ তরুণ নেতৃত্বের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তাদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নাম।
নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিবান্ধব, সক্রিয় ও সেবামুখী নেতৃত্ব প্রয়োজন। অনেকেই মনে করছেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং নাগরিক ভোগান্তি কমাতে উদ্যমী ও মাঠমুখী প্রশাসক জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে তরুণ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে রিটনের। ছাত্রদল, মহানগর যুবদল এবং পরে কেন্দ্রীয় যুবদলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বর্তমানে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সমর্থকদের মতে, সংগঠন পরিচালনায় দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকার কারণে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
তবে প্রশাসক পদে আলোচনায় থাকা অন্যান্য নেতারাও অভিজ্ঞতার দিক থেকে পিছিয়ে নেই। সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দীর্ঘদিন রাজশাহীর রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০১৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হলেও নানা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেলে পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নগর উন্নয়নে গতি আনতে পারবেন।
এ ছাড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদও প্রশাসক পদে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। যদিও তিনি সরাসরি কোনো তদবিরের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, দল সিদ্ধান্ত নিলে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছেন। দলের ভেতরে অনেকেই মনে করেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সহায়ক হতে পারে।
সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানার নামও আলোচনায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি প্রশাসক বা মেয়র—দুই ক্ষেত্রেই দায়িত্ব পালনের আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, আরেক নেতা আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে তিনি নগরবাসীর সেবায় কাজ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, সাবেক মেয়রকে প্রশাসনিক দায়িত্ব দিলে সেটি রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের কয়েকটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক বিবেচনা গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় রাসিকেও দলীয় প্রভাবের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভরশীল। প্রশাসক নিয়োগ কেবল প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তনই আনবে না, বরং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা স্পষ্ট—যে-ই প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান, তিনি যেন নগর উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেন। তরুণ ও প্রযুক্তিবান্ধব নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন বাড়লেও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পক্ষেও মত রয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরব। সিদ্ধান্ত যাই হোক, নগরবাসী চান কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন—যা রাজশাহীকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে সহায়ক হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬