
ময়মনসিংহ জেলার, ফুলবাড়িয়া উপজেলার, ১৩ নং ভবানীপুর ইউনিয়নের হাসানের মোড়/লোহা শহর বাজার মোড়ে কয়েকবছর যাবৎ গড়ে উঠেছে দু’টি ইট ভাটা। শুরুতে অতি উৎসাহী কয়েক জন স্থানীয় জমির মালিক তাদের আবাদি জমি বাৎসরিক ভাড়া হিসেবে ইট ভাটা স্থাপনের জন্য দেন। শুরুতে অল্প পরিসরে ভাটা গড়ে উঠলেও বর্তমানে এর পরিধি বিশালাকার। স্থানীয়দের বসত বাড়ি, বাজার ও লোহা শহর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় এর মাঝখানে ইটভাটা দু’টি স্থানীয়দের কাছে গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ইট তৈরির কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। প্রয়োজন হয় অধিক পরিমাণে মাটি সংগ্রহের কাজ। ভাটায় মাটি আনা ,বিক্রিত ইট ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া জন্য ব্যবহার করা হয় বহু সংখ্যক ট্রাক/ ড্রাম ট্রাক। এ সকল যানবাহনের যেমন নেই সঠিক কাগজপত্র, তেমনি এদের চালকদের ও নেই লাইসেন্স সহ সঠিক প্রশিক্ষণ। শুকনো মৌসুমে যানবাহন গুলো প্রচন্ড ধুলি উড়িয়ে রাস্তায় চলাচল করে। ফলে বিদ্যালয়ের আগত শিক্ষার্থী ও বাজারে আগন্তুক ক্রেতা বিক্রেতাদের অসহনীয় যন্ত্রণা পোহাতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই পিচঢালা পথে ড্রাম ট্রাক থেকে নির্গত মাটি চলাচলের পথ কে করে পিচ্ছিল। ফলে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘঠছে ।গ্রামের অধিকাংশ ঘরবাড়ির চাল নির্মিত হয়েছে টিন দিয়ে । অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি ভাটায় চলাচলকারী গাড়ির ধোলায় টিনের স্থায়িত্ব হারিয়েছে। ফলে বসত বাড়ি পরেছে হুমকির মুখে।
ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয় বনের কাঠ। চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। স্থানীয়ভাবে নারিকেল ,সুপারি সহ ফলজ বৃক্ষের দিকে তাকালে ফল শূন্য গাছ গুলোই এর প্রভাব দৃশ্যমান হয়।
ইট তৈরিতে স্থানীয় শ্রমিকসহ অসংখ্য দূর দুরন্তের শ্রমিক ও অংশ নেন। এতে করে বেকারদের কর্মসংস্থান হয়েছে । বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হলেও রাতের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষ করে শ্রমিকরা যেখানে বিশ্রাম নেবে, সেখানে দেখা যায় উল্টো চিত্র। ইট ভাটায় রাতের অন্ধকারে যেমন বসে মাদকের আড্ডা, তেমনি বসে জোয়ার আসর। ইতিপূর্বে এই ভাটা থেকে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত বেশ কয়েকজন তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
সম্প্রতি স্থানীয়রা অনেকটাই অতিষ্ঠ । বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ইটভাটা স্থানান্তর করতে গেলেও মালিকপক্ষের অধিক অর্থের লোকসান হবে। পরিবেশ দূষণ বিদ্যালয়ে আগন্তক শিক্ষার্থীদের নির্মল পরিবেশে শিক্ষার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা। বাজারে আগন্তুক ক্রেতা বিক্রেতাদের চলাচলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করা সহ নানাবিদ সমস্যার সমাধান চায় স্থানীয় বাসিন্দারা।