
রাজশাহীর চাঞ্চল্যকর বাহারুল ইসলাম হত্যা মামলার ৪ আসামি গ্রেফতার
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সন্ত্রাস, হত্যা, মাদক, অস্ত্র ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর একটি আলোচিত হত্যা মামলার চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন পূর্ব চান্দুরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৫ সিপিএসসি ও র্যাব-১ সিপিএসসি’র একটি চৌকস আভিযানিক দল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানে রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানার খোলাবোনা নিঝুমপল্লী এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর বাহারুল ইসলাম (৫০) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মামলার ১ নম্বর আসামি মো. মিলন ওরফে মিলু (৫২), ২ নম্বর আসামি মো. সুমন (১৯), ৩ নম্বর আসামি মো. কাওছার হোসেন (২৫) এবং ৫ নম্বর আসামি মিল্টন (৩০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতারকৃত আসামিরাসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা নিহত বাহারুল ইসলামের নিজ বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে এলোপাতাড়িভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে মামলাটি দায়ের হলে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৫ জানায়, অপরাধ দমনে তারা সব সময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।