দাগ নম্বরের ভুল ঘিরে বড়াইগ্রামে মামলা, বিক্রির পর জমি পুনরায় সন্তানদের নামে হেবা
বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ আলমগীর কবির,
নাটোরের বড়াইগ্রামে দাগ নম্বর সংশোধনের দাবিতে দেওয়ানি মামলা
বিক্রিত জমি ফের হেবা করে সন্তানদের নামে বণ্টনের অভিযোগ।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বিষ্ণুপুর মৌজায় পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে অর্জিত জমির দলিল ও খতিয়ানে দাগ নম্বরের অসঙ্গতি সংশোধনের দাবিতে বড়াইগ্রাম সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জমিতে বিবাদীপক্ষের প্রবেশ, জবরদখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছেন বাদীরা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিষ্ণুপুর মৌজার সাবেক ১২৬ নম্বর দাগ আরএস জরিপে ভেঙে ৪১৩ ও ৪১৪ নম্বর দাগে রূপান্তরিত হয়। এর মধ্যে ৪১৪ নম্বর দাগের ০.৩২ একর জমি আরএস ৪৫ নম্বর খতিয়ানে ছালেহা খাতুন বিবির নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কবলা দলিল (নং–৬২২) মূলে মো. শহিদুল ইসলাম সেখ গং উক্ত জমি ক্রয় করেন।
বাদীপক্ষের দাবি, আরএস ৪৫ নম্বর খতিয়ানে মুদ্রণজনিত ভুলে প্রকৃত ৪১৪ নম্বর দাগের পরিবর্তে ৪৪১ নম্বর দাগ উল্লেখ করা হয়। একই ভুল পরবর্তীতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পাদিত কবলা দলিলেও বহাল থাকে। ফলে কাগজপত্রে দাগ নম্বরের এই অসঙ্গতি সৃষ্টি হয়।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় চার দশক ধরে বাদীপক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখলে রেখে সুপারি ও কলা বাগান করে আসছেন। নিয়মিতভাবে সরকারি খাজনাও পরিশোধ করছেন। তবে সম্প্রতি বিবাদীপক্ষের উত্তরাধিকারীরা দলিলের ভুল দাগ নম্বরকে ভিত্তি করে জমির মালিকানা দাবি করছেন এবং দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বাদীদের অভিযোগ, বিবাদীপক্ষ রাতের আঁধারে জমির ওপর ঘর নির্মাণের চেষ্টা করে এবং ভাড়াটিয়া লোকজন এনে জোরপূর্বক দখল প্রতিষ্ঠার পায়তারা করছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিবাদীপক্ষ ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি হেবা দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে পূর্বে বিক্রিত জমি পুনরায় নিজেদের সন্তানদের নামে লিখে দেন। বাদীপক্ষের মতে, বিক্রয়ের পর পুনরায় হেবা দলিল সম্পাদন আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং এটি নতুন করে মালিকানা জটিলতা তৈরি করেছে। বিষয়টি আদালতের শুনানির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. শহিদুল ইসলাম সেখ ও মো. সাখাওয়াত হোসেন সেখ আদালতের কাছে তিনটি প্রধান প্রার্থনা জানিয়েছেন—
প্রথমত, খতিয়ান ও দলিলে ভুলবশত লেখা ‘৪৪১’ নম্বর দাগের স্থলে প্রকৃত ‘৪১৪’ নম্বর দাগ ঘোষণা ও সংশোধনের নির্দেশ।
দ্বিতীয়ত, জমির মালিকানা ও দখল সংরক্ষণে বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি।
তৃতীয়ত, সংশোধিত আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান।
বর্তমানে মামলাটি বড়াইগ্রাম সিভিল জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ভূমি অফিসের খাজনা রসিদ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাদীপক্ষ নিয়মিতভাবে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে আসছেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য, দাখিলকৃত দলিল ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী আদেশ প্রদান করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। জমির দাগ নম্বরের সামান্য ভুল কীভাবে দীর্ঘদিন পর বড় ধরনের আইনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে, এই মামলা তার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এখন আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬