
তপন চন্দ্র সরকার,স্টাফ রিপোর্টার, হোসেনপুর কিশোরগঞ্জ,
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডায়াবেটিস কর্নারের একটি ভবন দীর্ঘ তিন বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।জানা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের বিশেষায়িত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ( জাইকা) একটি স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণ করে দেয়। জাইকা উপজেলা ডেভলাফমেন্ট ফ্যাসিলিটিটর ( ইউডিএফ) প্রতিনিধি পলাশ কর বলেন,২০২৪ সালের জুন মাসে ভবনটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।এ ছাড়াও জেলা পরিযদ থেকে আরও দুই লাখ টাকা আনুষঙ্গিক কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও ভবনটি থালা বদ্ধ রাখা কতৃপক্ষের দায়িত্ব হীনতাবোধ নিয়ে প্রশ্নজাগে। এরকম প্রকল্পের আওতায় পাশের নান্দাইল উপজেলার একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও সেটি আরও দুই বছর আগে থেকেই কাজ চলমান রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও,নান্দাইল ও পাকুন্দিয়া উপজেলার মধ্যে অবস্থিত।যে কারণে বিপুলসংখ্যক ডায়াবেটিস রোগী সেবা নিতে এখানে ছুটে আসেন।আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এই কর্নার চালু না থাকায় রোগীদের জেলা সদর বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বাড়তি খরচে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। দ্রুত ভবনটি চালু করার দাবি জানান তারা।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা( ইউএইচঅ্যান্ডএফপিও) ডা. তানভীর হাসান জিকু জানান,ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলেও ভবনের সামনে মাটি ভরাট ও কিছু কাজ রয়ে গেছে। এ কাজগুলো সম্পন্ন হলে খুব শীঘ্রই সেখানে কাজ শুরু করা হবে।
হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্বাস্থ্য খাতে উপজেলা পরিযদ হস্তান্তরিত বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত কাজী নাহিদ ইভার কাছে ভবনটি নির্মাণের তিন বছরেও উদ্বোধন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের বিষয়টি সম্পূর্ণই ইউএইচঅ্যান্ডএফপিও নিজস্ব চিন্তায় পরিচালনা করে আসছেন। তিনি এও বলেন, কুকুরে কামড়ের ভেকসিন কিনতে এক লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও এখনও তা ক্রয় করেননি।