
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি
মানবিক বিবেচনায় প্যারোলে সাময়িক মুক্তি পেলেও স্বাধীনভাবে শেষ বিদায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ মেলেনি। হাতকড়া হাতে, পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি এই অবস্থাতেই বাবার লাশ কাঁধে তুললেন ইয়াসিন শরীফ মজুমদার, যিনি পরশুরাম উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। ঘটনাটি ঘটেছে পরশুরাম এলাকায়, যা ইতোমধ্যেই স্থানীয় জনমনে তীব্র আবেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।প্যারোলে মুক্তি, কিন্তু শর্তসাপেক্ষ উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা ইয়াসিন শরীফের বাবা বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলে প্রশাসন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। তবে সেই মুক্তি ছিল কড়া শর্তে পুরো সময়জুড়ে তার হাতে হাতকড়া ও পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো ছিল। ছিল কঠোর পুলিশি পাহারা। কারাগার থেকে সরাসরি গ্রামের বাড়িতে এনে জানাজা ও দাফন সম্পন্নের সুযোগ দেওয়া হয়।
জানাজা শেষে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। হাতকড়া পরা অবস্থাতেই বাবার কফিন কাঁধে তুলে নেন ইয়াসিন শরীফ। পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি থাকায় তার চলাফেরায় স্পষ্ট ছিল কষ্টের ছাপ। তবুও শেষবারের মতো বাবাকে কাঁধে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে পিছপা হননি তিনি। উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীর অনেকেই এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ এটিকে “আইনের কঠোরতা”, আবার অনেকে “মানবিকতার সীমাবদ্ধতা” হিসেবে মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন মানবিক কারণে প্যারোল দেওয়া হলেও হাতকড়া ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখা কতটা প্রয়োজন ছিল? আবার অন্য অংশ বলছে, আইন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব। দাফন শেষে ফের কারাগারে দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই নির্ধারিত সময় শেষ হলে পুলিশি পাহারায় তাকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে। এই ঘটনা একদিকে যেমন একজন সন্তানের পিতৃবিয়োগের বেদনা, অন্যদিকে আইনের কঠোর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে। মানবিকতা ও নিরাপত্তা দুইয়ের ভারসাম্য নিয়ে এখনো চলছে জনমনে আলোচনা।