
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি
আধিপত্য বিস্তার, প্রেমঘটিত বিরোধ ও ছিনতাই–চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা; প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর ফেনী শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় প্রতিটি অলিগলিতে দলবদ্ধ কিশোরদের আড্ডা এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক ও জনসমাগমস্থলে ১০-২০ জনের দলবদ্ধ উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। যেসব এলাকায় বেশি তৎপরতা স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী একাডেমি এলাকা, সদর হাসপাতাল রোড, নাজির রোড, শান্তি কোম্পানি রোড, হাজারী রোড (নতুন পুলিশ লাইন)এলাকা, মৌলভি ঘাটা, জামায়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার রোড়, সালাউদ্দিন মোড়, কাটবাইল্লা রোড, পাঠানবাড়ি রোড, পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার, চক্ষু হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, রামপুর, বিরিঞ্চি, রাজাঝির দীঘির পাড় এবং ফেনী কলেজ মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া রাতের বেলায় বিভিন্ন শপিং মলের সামনে দলবদ্ধ অবস্থানে দেখা যায় তাদের।
যেসব অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এলাকাবাসীর দাবি, এসব কিশোর গ্যাং আধিপত্য বিস্তার, প্রেম সংক্রান্ত বিরোধ, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ছুরি নিয়ে মহড়া, ছিনতাই, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যার মতো গুরুতর অপরাধেও তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অভিভাবক জানান, অল্প বয়সেই অনেক কিশোর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এবং বড়দের প্ররোচনায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য সদর হাসপাতাল রোডের এক দোকানদার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, রাত হলেই কয়েকটি গ্রুপ এসে দাঁড়িয়ে থাকে। সিগারেট খাওয়া, উচ্চস্বরে কথা বলা, মাঝে মাঝে ঝগড়া—এসব লেগেই থাকে।
আমরা ভয়ে কিছু বলতেও পারি না। ফেনী কলেজ মাঠসংলগ্ন এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, ছোট একটা বিষয় নিয়ে হঠাৎ করে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। ছুরি বের করতে দেখেছি। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাজাঝির দীঘির পাড়ের এক বাসিন্দা বলেন, প্রেমঘটিত বিষয় বা তুচ্ছ কথাকাটাকাটি থেকে বড় সংঘর্ষ হয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সন্ধ্যার পর বের হওয়াই কঠিন হয়ে গেছে।” সামাজিক অবক্ষয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক অবহেলা, সামাজিক নজরদারির অভাব, বেকারত্ব ও মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের বিপথগামী করছে। তারা মনে করছেন, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নিয়মিত টহল জোরদার, সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে আনা, স্কুল-কলেজভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার দাবি উঠেছে। একজন অভিভাবক বলেন, শুধু অভিযান নয়, আমাদের সন্তানদের কাউন্সেলিং ও সঠিক দিকনির্দেশনাও জরুরি। প্রশাসন ও পরিবার একসঙ্গে কাজ করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। সামাজিক সচেতনতার আহ্বান ফেনী ও আশপাশের এলাকার নাগরিকদের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। সচেতন নাগরিকদের মতে, কিশোরদের অপরাধী হিসেবে নয়—সঠিক পথের দিশা দেখিয়ে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই হওয়া উচিত এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।