
নিজেস্ব প্রতিবেদক
ইরানের রাজনৈতিক আকাশে দীর্ঘ কয়েক দশকের এক প্রভাবশালী নক্ষত্রের পতন এবং নতুন এক নেতৃত্বের উদয় হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশটির নতুন ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি।
নেতৃত্বের পটপরিবর্তন
খামেনির মৃত্যুতে ইরানি শাসনব্যবস্থার শীর্ষে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে দ্রুত বৈঠকে বসে দেশটির প্রভাবশালী ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মোজতবা খামেনিকে তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করে আসছিল। শেষ পর্যন্ত কট্টরপন্থী এই নেতার ওপরই ন্যস্ত হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভার।
কে এই মোজতবা খামেনি?
৫৫ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি পর্দার আড়ালে থেকে দীর্ঘকাল ইরানের রাজনীতি ও সামরিক প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য: প্রভাবশালী সংযোগ: ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রেভোলিউশনারি গার্ডস’ (IRGC) এর ওপর তার ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে মনে করা হয়। র্মীয় শিক্ষা: তিনি একজন শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক এবং ইরানের ধর্মীয় কেন্দ্র কোম (Qom)-এ উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। কট্টর অবস্থান: পশ্চিমাবিরোধী অবস্থানে তিনি তার বাবার মতোই অনড় এবং ইসরায়েল ইস্যুতে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
মোজতবার এই অভিষেক এমন এক সময়ে ঘটলো যখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনে মোজতবা কতটা সফল হন, তার ওপর নির্ভর করছে ইরানের ভবিষ্যৎ।মোজতবা খামেনির ক্ষমতা গ্রহণ ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষার চেষ্টা হতে পারে, তবে এটি দেশটির ভেতরে এবং বাইরে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।” — রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ