
এম কে হাসান বিশেষ প্রতিবেদক কক্সবাজার
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের দখল দারিত্ব ও পর্যটন অপরাধ দমনে ট্যুরিস্ট পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পর্যটন নগরী। সৈকতের শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার রিজিয়ন প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি (এডিআইজি) আপেল মাহমুদের জিরো টলারেন্স নীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে প্রভাবশালী একটি দখলদার চক্র। সরাসরি পেশি শক্তিতে ব্যর্থ হয়ে এখন ওই কর্মকর্তাকে কক্সবাজার থেকে সরাতে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন ও সাইবার বুলিংয়ের নোংরা খেলায় মেতেছে স্বার্থান্বেষী এই মহল।সৈকতের বালিয়াড়ি যখন হকারদের দখলে:- কক্সবাজার সৈকতের পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে বর্তমানে। সৈকতের বালুচরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চাকা লাগানো শত শত অস্থায়ী লোহার দোকান ও অবৈধ স্থাপনা বসানো হয়েছে।এসব অবৈধ দোকানের ওপরে ত্রিপল ও পলিথিন দিয়ে তাবু টানিয়ে সৈকতের স্বাভাবিক চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের সাইন বোর্ডের খুব কাছেই এসব অবৈধ সরঞ্জামের স্তূপ দেখা যাচ্ছে, যা সৈকতের সার্বিক নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।পরিকল্পিত চরিত্র হনন ও জিডি’র তথ্য:- দখলদারদের স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা এখন এডিআইজি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যমে যুদ্ধে নেমেছে। গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে কক্সবাজার সদর থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ২২৫) থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে ।মিথ্যা সংবাদের প্রচার:- ‘Shahed Ferdous Hero’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পর্যটন সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে অবৈধ বাণিজ্যের কাল্পনিক অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ভিডিও ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট:- ‘Samudrarb Bela’ নামক পেজে লায়লা নামক এক নারীর বানোয়াট ভিডিও এবং ‘Telegram News’ ও coxbazarjournal.com’ ফেসবুক পেইজে মানহানিকর ও অপমান জনক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।সম্মানহানির চেষ্টা:- জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব আইডি ও পেইজ ব্যবহারকারীরা পরিকল্পিত ভাবে এই কর্মকর্তার পেশাগত দক্ষতার ইমেজ সংকট তৈরির পাশাপাশি তাকে সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।নেপথ্যে যারা:- অনুসন্ধানে জানা যায় সৈকতের অবৈধ ফটোগ্রাফার, হকার সিন্ডিকেট এবং অনুমোদনহীন বাইক, ঘোড়া, ছিনতাই চক্র, দোকান মালিকসহ সকলের বিরুদ্ধে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে নেপথ্যের কুশীলবরা। ওই কর্মকর্তাদের বদলি নিশ্চিত করে পুনরায় সৈকতে নৈরাজ্য কায়েম করাই এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য।প্রশাসনিক ভাষ্য:- এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানায় একটি জিডি ট্র্যাকিং (LYNWG8) নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মাধ্যমে এই কুৎসা রটনাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। কোনো ধরনের ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করে পর্যটন পুলিশের আইনি তৎপরতা বন্ধ করা যাবে না।