
পঞ্চগড়ে অধ্যক্ষের বাড়িতে ডাকাতি: পরিকল্পনাকারী প্রতিবেশীসহ গ্রেপ্তার ৬
মোঃ মোহন মিয়া স্টাফ রিপোর্টার পঞ্চগড়
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় এক কলেজ অধ্যক্ষের বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র ও লুট হওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে পঞ্চগড় সদর থানার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় অধ্যক্ষ নুরুল্লাহর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরের ওয়্যারড্রোব, স্যুটকেস ও ড্রেসিং টেবিল থেকে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার (আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা), নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর পঞ্চগড় সদর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৪ মার্চ গভীর রাতে পঞ্চগড়ের গাড়াতি ছিটমহল ও পুকুরীডাঙ্গা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন— মজিবর রহমান (৩৫), রমজান আলী (৩০), সাদ্দাম হোসেন (৩০), আশিক (১৯) ও জুবায়ের (১৯)। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী আলম (৩৭) কে ৫ মার্চ রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সদর উপজেলার জিয়াবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশের একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এসআই আবু হোসেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং টানা অভিযানের মাধ্যমে তিনি ও তার সহকর্মীরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হন। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দেন তিনি।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লুট হওয়া একটি স্মার্টফোন, একটি সিম কার্ড এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সাবল, একটি ছোট ছুরি ও দুটি বড় ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার আলম ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ নুরুল্লাহর প্রতিবেশী। অভাবের কারণে তিনি নুরুল্লাহর কাছে এক বিঘা জমি বর্গা চেয়েছিলেন। জমি না পাওয়ায় ক্ষোভ থেকেই তিনি ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। পরে কামরুল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করলে কামরুল তার সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজি হয়।
ঘটনার দুই দিন আগে আলমসহ কয়েকজন মিলে পরিকল্পনা করে। ঘটনার রাতে তারা বাড়ির পশ্চিম পাশের সুপারি বাগানের দিকে গ্রিলবিহীন একটি জানালা সাবল দিয়ে ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। পরে সাদ্দামের বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে বসে নগদ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় এবং স্বর্ণালংকার বিক্রির জন্য সহযোগীদের কাছে দেয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার আলম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আলম কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এ দলটি একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য। তারা পঞ্চগড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এ ঘটনায় জড়িত পলাতক কামরুল ও মনিরকে গ্রেপ্তার এবং বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।