
আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
পবিত্র রমজান মাসে শুক্রবার সন্ধ্যা নামলেই মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ছোট ছোট বাজারগুলো যেন পরিণত হয় একেকটি উৎসবমুখর ইফতার মেলায়।ঢাকা থেকে কর্মস্থল শেষে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড়ে জমে ওঠে এসব বাজার।সারা সপ্তাহ ঢাকায় চাকরি বা ব্যবসায় ব্যস্ত থাকা মানুষ শুক্রবার ছুটির দিনে পরিবারকে সময় দিতে ছুটে আসেন নিজ গ্রামে।আর সেই সুযোগেই পরিবারের জন্য ইফতারি ওসাপ্তাহিক বাজার করতে ভিড় করেন এলাকার ছোট বাজারগুলোতে।বিকেলের পর থেকেই বাজারে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। শিশুদের হাত ধরে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা বাজারে এসে ইফতারের জন্য নানা রকম খাবার কিনে নিয়ে যান। এতে করে বাজারগুলোতে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান,সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর তুলনায় শুক্রবারে বিক্রি হয় দ্বিগুণেরও বেশি। তাই তারা আগে থেকেই আলুর চপ,বেগুনি,পেঁয়াজু,হালিমসহ বিভিন্ন ইফতারি আইটেম দ্বিগুণ পরিমাণে প্রস্তুত রাখেন।
ক্রেতাদের অনেকেই জানান,সারা সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে ইফতার করা হয় না। তাই শুক্রবারে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে ইফতার করার আনন্দটাই আলাদা।তবে ইফতারি পণ্যের দামের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। একই বাজারে এক দোকানে আলুর চপ ১০ টাকা পিস হলেও পাশের দোকানে সেটি বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায়।ক্রেতাদের অভিযোগ,আলু,বেগুন ও ভোজ্যতেলের দাম কমলেও অনেক বিক্রেতা আগের বাড়তি দামেই পণ্য বিক্রি করছেন। একবার দাম বাড়লে তা আর কমে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামে ইফতারি বিক্রি করা দোকানদারদের প্রশংসা করছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, এমন ব্যবসায়ীরা সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।বাজার ঘুরে দেখা গেছে,শুধু ইফতারি নয়-সবজি,মাছ ও মাংসের দোকানেও ছিল ব্যাপক ভিড়। ঢাকায় কর্মরত অনেকেই একদিনেই সাপ্তাহিক বাজার সেরে নিচ্ছেন।জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলার ছোট বাজারগুলোতে একই চিত্র দেখা গেছে।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন,রমজানের বাকি শুক্রবারগুলোতেও এমন জমজমাট ভিড় অব্যাহত থাকবে।স্থানীয়দের মতে,এই ইফতার বাজার শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যই বাড়ায় না,পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক ও ভালোবাসার বন্ধনও আরও দৃঢ় করে।এদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের দামের বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও দামের অসংগতি দূর করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।তবুও সব মিলিয়ে প্রতি শুক্রবার মুন্সিগঞ্জের ছোট বাজারগুলোতে রমজানের আনন্দ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।