
রক্তস্নাত কক্সবাজার: হাসপাতালের লিফটের নিচে মিলল নিখোঁজ গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ: পৃথক ঘটনায় আরো ২ খুন
এম কে হাসান
বিশেষ প্রতিবেদক কক্সবাজার
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ জেলা সফরের ঠিক আগের দিন জেলা সদর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে নিখোঁজ এক গৃহবধূর অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার এবং শহরের পৃথক স্থানে আরও দুই খুনের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী কাল অনুষ্ঠেয় উচ্চ পর্যায়ের আইন শৃঙ্খলা সভায় এসব ঘটনা নিয়ে কঠোর নির্দেশনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসার বদলে মিলল মৃত্যু:- সন্তানকে বাঁচাতে এসে নিজেই লাশ হয়ে ফিরলেন উখিয়ার কোহিনুর আক্তার (৩০)। উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের এই বাসিন্দা ও মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী গত চারদিন আগে তার অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে আসেন। স্বজনদের দাবি, সন্তানকে ওয়ার্ডে রেখে ওষুধ কিনতে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি রহস্য জনক ভাবে নিখোঁজ হন।
নিখোঁজের চারদিন পর আজ দুপুরের দিকে হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে তার অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চারদিন ধরে হাসপাতালের মতো একটি জন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি মরদেহ পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের নজরে না আসা নিয়ে উঠেছে চরম অব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ সংবাদটি আলোচনায় থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা সবাইকে অবাক করেছে। স্বজনদের দাবির পরও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা হয় নাই বলে অভিযোগ উঠেছে।
অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য হাসপাতাল প্রাঙ্গণ:- সচেতন মহল ও সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে একাধিক দালাল ও অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। লিফটের নিচে মরদেহ কীভাবে এল এবং এর সাথে হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষীসহ আর কে বা কোনো চক্র জড়িত কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
২৪ ঘণ্টায় শহরে আরও দুই খুন, জনমনে আতঙ্ক:- হাসপাতালের এই মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শহরের কলাতলী এবং বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় পৃথক পৃথক দুটি ঘটনায় আরও দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পর্যটন নগরীতে তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তা হীনতা কাজ করছে। বিশেষ করে পর্যটন জোনের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ও আগামীকালের সভায় কঠোর বার্তার অপেক্ষা !
আগামীকাল নিজ জেলা কক্সবাজার সফরে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রীর আগমনের ঠিক আগের দিন এই সিরিজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। আগামী কাল নির্ধারিত উচ্চ পর্যায়ের আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভায় এই বিষয় গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক সূত্র বলছে, কক্সবাজারের সাম্প্রতিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে কালকের সভায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হতে পারে। বিশেষ করে সদর হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি মূলক ব্যবস্থার নির্দেশনা আসতে পারে।
পুলিশের ভাষ্য ও তদন্ত প্রক্রিয়া:- কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, সবকটি মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের লিফটের নিচে মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।