
আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার মাওয়া এলাকায় দুটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ববি মিতু।অভিযান চলাকালে ফিলিং স্টেশনগুলোর তেল মজুদ সংক্রান্ত রেজিস্টার বই যাচাই-বাছাই করা হয়।একই সঙ্গে সেচ কাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লিটার তেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং খোলা তেল বিক্রি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।পাশাপাশি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির নিয়মনীতি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।এদিকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খুচরা বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় কৃষক লতিফ শেখ বলেন,ধান ক্ষেতে সেচ কাজের জন্য পাম্পে গেলে অনেক সময় বলা হয় তেল নেই। অথচ খোলা বাজারে ডিজেল সহজেই পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রতি লিটার ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন,যদি পাম্পে তেলের সংকট থাকে তাহলে খোলা বাজারে এত তেল কোথা থেকে আসছে। এ ক্ষেত্রে অসাধু পাম্প মালিকদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।এ পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় কৃষকরা।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন,শনিবার দুটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে সরকারের পরিপত্র অনুযায়ী তেল মজুদ ও বিক্রয় কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা যাচাই করা হয়।পরিদর্শনের সময় দেখা যায়,ফিলিং স্টেশনগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি বিক্রি করছে। তবে সব ক্রেতাকে বিক্রয় রশিদ দেওয়া হচ্ছে না।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতিটি ক্রেতাকে বিক্রয় রশিদ প্রদান নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান,অতিরিক্ত মূল্য আদায় না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে এবং ক্রেতাদের সঙ্গে সহনশীল আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খোলা বাজারে তেল বিক্রির কোনো সরকারি অনুমোদন নেই উল্লেখ করে ইউএনও বলেন,বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে এবং খুব দ্রুত সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।