
ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকাঃ
ঢাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক নারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তবে ঘটনাটির অভিযোগকারী একজন পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় পুরো বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন- একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে এমন সম্পর্কে জড়ালেন, কীভাবে বিপুল অর্থ লেনদেন করলেন এবং সেই অর্থের উৎসই বা কী?
অভিযোগকারী মোঃ রিপন হাওলাদার, যিনি পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর (বর্তমানে ওএসডি) হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে। তিনি সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মচারী মাকসুদা আক্তার লাভলী তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে রূপ নেয়। অভিযোগকারী নিজেই তার আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, সম্পর্কের সময় তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেছেন এবং একাধিক আবাসিক হোটেলে একসঙ্গে অবস্থান করেছেন। সেই সময়ের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে এখানেই দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন। একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়ে কীভাবে তিনি এমন একটি সম্পর্কে জড়ালেন এবং কেন তিনি একটি নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করলেন- সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে- প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত নারী বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা বলে তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, একজন সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ একজন ব্যক্তিকে দিয়েছেন এবং সেই অর্থের উৎসই বা কী? বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যদি সত্যিই এমন অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে, তাহলে তা কীভাবে প্রদান করা হয়েছে- নগদ, ব্যাংক লেনদেন নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে- সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার আর্থিক সক্ষমতা ও অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নারীর পারিবারিক একটি ঘটনার জেরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা হলে সেখানে রিপন হাওলাদারকে অবগত না করেই সাক্ষী করা হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি আপত্তি জানালে তাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।
রিপনের দাবি, তিনি এতে রাজি না হলে তাকে মোবাইল ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড ও বার্তা তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত মাকসুদা আক্তার লাভলী বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের রেল ভবনের আইসিটি শাখায় অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও প্রতারণা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—যদি ওই নারী সম্পর্কে আগে থেকেই কোনো নেতিবাচক ধারণা থেকে থাকে, তাহলে কেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা তার সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ালেন? এবং কেনই বা তিনি বিপুল অর্থ লেনদেনে জড়িয়ে পড়লেন?
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাকসুদা আক্তার লাভলীর বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে দুই পক্ষের সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেনের উৎস, এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা—সবকিছুই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। কারণ বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্যের আচরণ ও আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় কী ধরনের তদন্ত শুরু করে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।