
শ্যামনগরে চুরির মালামাল উদ্ধার ও চোরদের গ্রেফতার করে পুরস্কৃত হলেন এসআই সজীব আহমেদ
মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, স্টক রিপোর্টার (সাতক্ষীরা ) : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চুরির মালামাল উদ্ধার ও চোরদের গ্রেফতার করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সজিব আহমেদ। কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র ছাড়াই চোরচক্রের মূল হোতাদের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার সহ উদ্ধারের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন জেলা পুলিশের শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার। ৯ তারিখ সোমবার সকালে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্সের মাসিক কল্যাণ সভায় জেলা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তুলে দেন।ঘটনাটি ছিল গত ১০ ফেব্রুয়ারির। শ্যামনগর উপজেলার ফুলতলা মাজাট গ্রামের মোদাচ্ছের আলম লিটনের বাড়িতে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকাসহ স্বর্ণের রুলি, নেকলেস, চেইন ও নাকফুলসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে চম্পট দেয় চোরচক্র। চুরির ধরন এমন ছিল যে, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কূলকিনারা পাওয়া যাচ্ছিল না। মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব পড়ে এসআই সজিব আহমেদের কাঁধে। তদন্তের শুরুতে কোনো ‘ক্লু’ না থাকলেও পিছু হটেননি এই তরুণ কর্মকর্তা। তথ্যপ্রযুক্তির নিপুণ ব্যবহার আর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘ এক মাস ধরে তিনি নিবিড় অনুসন্ধান চালান। অবশেষে গত ৮ মার্চ রাতে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ঢাকার আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মূল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে।এরপর সাইফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিনেমার গল্পের মতো একে একে বেরিয়ে আসে চোরচক্রের বাকি সদস্যদের নাম। সজিব আহমেদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ছোটেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায়। সেখান থেকে শিমুল হোসেন এবং সবশেষে মানিকগঞ্জ সদর থেকে তাদের বোন জাকিয়া সুলতানাকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার। উদ্ধার অভিযানে জাকিয়ার ঘরের স্টিলের বাক্স থেকে বেরিয়ে আসে একজোড়া স্বর্ণের রুলি, নেকলেস, আংটিসহ লুট হওয়া সম্পদের বড় একটি অংশ। এমনকি চোরচক্রের গলিয়ে ফেলা স্বর্ণের অংশবিশেষও কালিগঞ্জের মৌতলা বাজার থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন তিনি। এর আগে এই মামলার আরেক আসামি সবুজকেও গ্রেপ্তার করেছিলেন এসআই সজীব। পেশাদারিত্ব ও মেধার স্বাক্ষর রাখায় এসআই সজীব আহমেদকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।