
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
রাজশাহী নগরীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী আদালত এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,নগরীর টিকাপাড়া এলাকার করিমের ছেলে এবং মামলার ৩ নম্বর আসামি মিশাল (৩০) ও বহরমপুর এলাকার মৃত মানিকের ছেলে এবং মামলার ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহিম (৪০)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মিশালের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। অপরদিকে ইব্রাহিম এলাকাজুড়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা ইব্রাহিমকে মারধর করে। তবে ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামলার আরেক অভিযুক্ত সাইদ আলী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত প্রায় ৮টার দিকে প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—নুরে ইসলাম মিলন (৪৫), সুরুজ আলী (৩০), সাইদ আলী (৩৮) ও রেন্টু (৩০)।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে অভিযুক্তরা প্রেসক্লাব পরিচালনার কথা বলে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গত শনিবার রাতে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তারা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল ঠেকিয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হলে সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমকে আঘাত করেন। এতে তাঁর উরুতে গুরুতর ক্ষত হয় এবং পরে হাসপাতালে তাঁকে ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে।
হামলার সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা একটি গাড়ি (কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮) ফেলে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।পরে আহত সাংবাদিক নেতাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।খবর পেয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া গাড়িটি জব্দ করে।বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলার ৩ নম্বর আসামি মিশাল ও ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।এদিকে সাংবাদিক নেতার ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।