
মোঃ আজাদ হোসেন নিপুঃ জামালপুর জেলা
জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলোচিত মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জামালপুর জেলা আদালত। আবার, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬ ইং জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মনসুর, ফারুক ও ফেরদৌস। অপরদিকে মামলার অপর আসামি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উপস্থাপিত আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত নিশ্চিত হন যে, দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীর সঙ্গে একটি নির্জন স্থানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করে স্বামীকে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। এরপর তার সামনে স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও তার স্বামী স্থানীয়দের সহায়তায় থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য, মেডিকেল রিপোর্ট ও অন্যান্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিন আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে আইনজীবী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেবে।