
নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ)
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কুকুটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম নওপাড়া গ্রামে গভীর রাতে একদল রহস্যময় ব্যক্তির আনাগোনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত রাত আনুমানিক ২টার দিকে খান বাড়ি ও বেপারী বাড়ির নতুন রোডের তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ৪-৫টি মোটরসাইকেলে আসা একদল অজ্ঞাত পরিচয় যুবক উচ্চস্বরে হর্ন বাজিয়ে এবং কৃত্রিম কান্নার শব্দ করে গ্রামবাসীর মনে ত্রাসের সৃষ্টি করে।
ঘটনার বিবরণ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে গ্রামের মানুষ সাহরির প্রস্তুতির জন্য দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে পুরো গ্রাম যখন নিস্তব্ধ, ঠিক তখনই ৪-৫টি মোটরসাইকেলে করে বেশ কিছু যুবক ওই মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। তারা অহেতুক উচ্চশব্দে হর্ন বাজাতে থাকে এবং পরিকল্পিতভাবে কান্নার অভিনয় করে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি করে। প্রায় ১০-১৫ মিনিট ধরে চলা এই অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে আশপাশের মানুষের ঘুম ভেঙে যায় এবং সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ভীতি সৃষ্টি হয়।গ্রামবাসীর প্রতিরোধ
পরিস্থিতি অস্বাভাবিক দেখে স্থানীয় এক সচেতন যুবক একা এগিয়ে না গিয়ে ফোনে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন। ১০-১২ জন গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে একসাথে ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হলে মোটরসাইকেল আরোহীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। অন্ধকার ও দ্রুত গতির কারণে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। গভীর রাতে এভাবে কৃত্রিম আতঙ্ক ছড়ানো কোনো বড় ধরনের অপরাধ বা ডাকাতির পূর্ব প্রস্তুতি কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি:
তারা কারা ছিল এবং কেন এই ভীতি প্রদর্শন?পর্যবেক্ষণ করাই কি তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল?প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ভুক্তভোগী গ্রামবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা কুকুটিয়া ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি এবং শ্রীনগর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। একই সাথে রাত ১০টার পর বহিরাগত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি এবং টহল বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।গ্রামের নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয় যুবকদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী পাহারাদার দল গঠনেরও পরিকল্পনা করছেন স্থানীয়রা।