স্বাস্থ্য ডেস্ক
মানুষের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। শরীরের বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করা, পানির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কিডনি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমানে কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রোগ ধরা পড়ে একেবারে শেষ পর্যায়ে, যা জীবনকে সংকটাপন্ন করে তোলে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি রোগকে প্রায়ই ‘সাইলেন্ট ডিজিজ’ বা নীরব ঘাতক বলা হয়। কারণ, লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই এই রোগ শরীরে অনেকটা ডালপালা মেলে দেয়। কিডনি তার প্রায় ৪০ শতাংশ কার্যক্ষমতা হারানোর আগ পর্যন্ত অনেক সময় কোনো স্পষ্ট সংকেত দেয় না। শুরুতে কিডনি তার অসাধারণ সক্ষমতা দিয়ে ক্ষতিপূরণ করে কাজ চালিয়ে যায়, ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না যে ভেতরে কোনো বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শরীরের সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তনের দিকে নজর দিলে আগেভাগে এই মরণব্যাধি শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞ মতামত অনুযায়ী কিডনি সমস্যার প্রধান চারটি লক্ষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
কিডনি সমস্যার প্রথম ও প্রধান লক্ষণ ধরা পড়ে প্রস্রাবের পরিবর্তনে। সুস্থ কিডনি সাধারণত রক্তে থাকা প্রোটিন ধরে রাখে। কিন্তু কিডনির ফিল্টারিং ঝিল্লি (ছাঁকনি) দুর্বল হয়ে পড়লে প্রোটিন প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে আসে। এর ফলে প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা বা বুদবুদ দেখা দেয়। এছাড়া রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া বা প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন হওয়া কিডনি নষ্ট হওয়ার বড় সংকেত।
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সব সময় শরীর ক্লান্ত লাগে, তবে সেটি কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। কিডনি শরীর থেকে 'এরিথ্রোপয়েটিন' নামক একটি হরমোন তৈরি করে, যা লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে এই হরমোন উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় এবং শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের নিচে বা পায়ের গোড়ালিতে ফোলাভাব দেখা দিলে তা অবহেলা করবেন না। কিডনি যখন শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল ও সোডিয়াম বের করে দিতে পারে না, তখন তা শরীরের নিচের অংশে বা নরম টিস্যুতে জমে যায়। অনেকেই একে সাধারণ ক্লান্তি মনে করেন, যা আসলে কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
কিডনি এবং রক্তচাপ একে অপরের পরিপূরক। কিডনি শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিডনি দুর্বল হয়ে পড়লে শরীরে লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং রক্তচাপ বাড়তে থাকে। আবার উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত একে অকেজো করে দেয়। এটি একটি মারাত্মক চক্রের মতো কাজ করে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সুস্থ হওয়ার হার তুলনামূলক কম। তাই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোই হতে পারে এই নীরব ঘাতক থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬