
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি আর বড় স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও ভিয়েতনামের বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। হামজা চৌধুরীসহ পাঁচজন প্রবাসী ফুটবলারকে একাদশে রেখেও একটি গোল তো দূরে থাক, নূন্যতম লড়াইটুকুও করতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খেলে স্বাগতিক ভিয়েতনাম। প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল হজম করে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
৮ম মিনিট: ভিয়েতনামের সেট পিস থেকে আসা আক্রমণ সামলাতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ রক্ষণভাগ। সতীর্থের বাড়ানো বল থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোলমুখ খোলেন ভিয়েতনামের তুয়ান হাই।
১৮তম মিনিট: আবারো সেট পিসের ফাঁদে বাংলাদেশ। গোলরক্ষক শ্রাবণকে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-০ করেন দো দুই মাহন।
৩৮তম মিনিট: বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন এনগুয়েইন হাই লং। দুই ডিফেন্ডারকে ছিটকে দিয়ে নিচু শটে ৩-০ স্কোরলাইন নিশ্চিত করেন তিনি।
বিরতির পর বাংলাদেশ কিছুটা গোছানো ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। দ্বিতীয়ার্ধে কোনো গোল হজম না করলেও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারেনি হামজা-ইমনরা। ম্যাচের ৫২ মিনিটে গোলরক্ষক শ্রাবণকে একা পেয়েছিলেন ভিয়েতনামের রাফায়েলসন, তবে ডিফেন্ডারদের তৎপরতায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ। ৬০ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় শাহরিয়ার ইমন একটি সুযোগ তৈরি করলেও সেটি ব্লক করে দেয় ভিয়েতনামের রক্ষণ। ৬৯ মিনিটে হামজা চৌধুরীর একটি পাস কেড়ে নিয়ে শট নিয়েছিলেন খুয়াত ফন খাং, তবে বল বারে লেগে ফিরে আসলে ব্যবধান আর বাড়েনি। ভিয়েতনামের বিপক্ষে এই হার বাংলাদেশের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা। কারণ, মাত্র চার দিন পরেই এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হতে হবে লাল-সবুজদের। ভিয়েতনামের বিপক্ষে ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সিঙ্গাপুর ম্যাচে দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।