
নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা একটি জনপ্রিয় সামাজিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। শরীর সুস্থ রাখতে মানুষ এখন ডিটক্স ডায়েট, ক্লিন ইটিং কিংবা প্রচুর পরিমাণে সবজি খাওয়ার দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ইন্টারনেটের তথ্য বা নিজের খেয়ালখুশি মতো তৈরি করা এই ডায়েট চার্ট অনেক সময় ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিনের কিডনি সমস্যা (CKD) বা কিডনি স্টোনে ভুগছেন, তাদের জন্য ‘সবজি মানেই ভালো’—এই ধারণাটি হিতে বিপরীত হতে পারে।
কিডনির প্রধান কাজ হলো শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম, ফসফরাস, নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য, ইউরিক অ্যাসিড এবং অক্সালেট ছেঁকে বের করে দেওয়া। কিন্তু যখন কিডনি দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন এই উপাদানগুলো রক্তে জমতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, না জেনে উচ্চ মাত্রার খনিজসমৃদ্ধ সবজি খেলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা রোগের অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।
কিডনির সমস্যা থাকলে খাদ্যতালিকা নির্বাচনে চারটি বিশেষ উপাদানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি:
উচ্চ অক্সালেটযুক্ত সবজি: পালং শাক, বিটরুট, ঢেঁড়স ও কচুশাক। অক্সালেট ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ পাথর তৈরি করে, যা কিডনি পাথরের রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত সবজি: আলু, মিষ্টি আলু, টমেটো ও লাউশাক। কিডনি অকেজো হলে শরীর বাড়তি পটাশিয়াম বের করতে পারে না, ফলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে গিয়ে (হাইপারকালেমিয়া) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
পিউরিনসমৃদ্ধ সবজি: মাশরুম, ফুলকপি, মটরশুঁটি এবং পালং শাক। এগুলো থেকে উৎপন্ন ইউরিক অ্যাসিড কিডনিতে প্রদাহ তৈরি করে এবং পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
ফসফরাসযুক্ত খাবার: মাশরুম ও ডাল জাতীয় সবজি অতিরিক্ত খেলে শরীরে ক্যালসিয়াম-ফসফরাসের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে হাড় দুর্বল হয়ে যায় এবং রক্তনালিতে ক্যালসিয়াম জমে জটিলতা তৈরি হয়।
কোন খাবার কার জন্য কতটুকু উপকারী, তা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, রোগের ধরন এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর। শুধু অন্ধভাবে ট্রেন্ড অনুসরণ না করে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
মনে রাখবেন, সচেতন সিদ্ধান্তই সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে নিজে নিজে ডায়েট চার্ট তৈরি না করে একজন দক্ষ নেফ্রোলজিস্ট বা রেনাল ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।