
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব সোনা বাজারে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সোনার দাম আউন্স প্রতি ৫ শতাংশের বেশি কমে ৪,৩০০ মার্কিন ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে সর্বনিম্ন দর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই সোনার দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং অন্যথায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকির পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়। পাল্টা জবাবে ইরানও প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া এবং মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই মূল্যবান ধাতুর ওপর।
বাজার সংশ্লিষ্ট ট্রেডাররা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমানে সোনার বাজারের জন্য ৪,২৩৫ এবং ৪,১০০ মার্কিন ডলার দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তর। যদি চলতি সপ্তাহে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪,১০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল থাকতে না পারে, তবে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী প্রবণতার (Bearish Trend) সূচনা হিসেবে ধরা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে:
বর্তমান পরিস্থিতি: দাম ৫ শতাংশ কমে ৪,৩০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে।
আশঙ্কা: চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দাম ৪,১০০ ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস: যদি ৪,১০০ ডলারের সাপোর্ট লেভেলটি ভেঙে যায়, তবে বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম ৪,০০০ ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রেডারদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর ভিত্তি করেই আগামী কয়েক দিন সোনার বাজার ওঠানামা করবে। তবে দাম ৪,১০০ ডলারের নিচে নেমে গেলে বাজার দীর্ঘ সময়ের জন্য মন্দার কবলে পড়তে পারে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।