
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাস্তার পাশে ফুটপাতে বা ভ্রাম্যমাণ হকারদের ক্যানভাসে চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে অনেকেই কিনছেন বিভিন্ন ধরণের যৌন উত্তেজক বড়ি, হালুয়া বা মালিশ। “এক নিমিষেই সকল সমস্যার সমাধান” কিংবা “স্থায়ী কামশক্তি বৃদ্ধি”র মতো প্রলোভনে পড়ে সাধারণ মানুষ এসব ওষুধ সেবন করছেন। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এসব অনিবন্ধিত এবং মানহীন ওষুধ সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও শরীরের অপূরণীয় ক্ষতি করছে, যা অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হকারদের বিক্রি করা এসব ওষুধে কোনো স্বীকৃত ফর্মুলা থাকে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এতে উচ্চমাত্রার সিলডেনাফিল (Sildenafil), স্টেরয়েড এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে। অনেক সময় আয়ুর্বেদিক বা হারবাল নাম দিয়ে বিক্রি করা হলেও এর ভেতরে ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ সেবন করলে নিম্নলিখিত জটিলতা দেখা দিতে পারে:
কিডনি ও লিভার বিকল: ওষুধের উচ্চমাত্রার টক্সিন সরাসরি কিডনি এবং লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
হৃদরোগের ঝুঁকি: এই ধরণের ওষুধ সেবনের ফলে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি হ্রাস: অনিয়ন্ত্রিত এসব ড্রাগ চোখের রেটিনার ক্ষতি করতে পারে এবং শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
স্থায়ী যৌন অক্ষমতা: সাময়িক সুবিধার জন্য এসব ওষুধ নিয়মিত খেলে শরীরের স্বাভাবিক হরমোন ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে এক সময় মানুষ চিরতরে যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা একটি অতি সাধারণ শারীরিক বিষয়। এর জন্য লোকলজ্জার ভয় ত্যাগ করে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রাস্তার হকারদের প্রলোভনে পড়ে নিজের জীবন বিপন্ন করা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে পাঠকদের প্রতি আহ্বান, চটকদার বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত না হয়ে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হোন। মনে রাখবেন, ফুটপাতের কোনো মোড়কহীন ওষুধ আপনার জীবন বাঁচানোর বদলে কেড়ে নিতে পারে অকালেই।