
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি প্রস্তাবকে ‘একতরফা এবং অন্যায্য’ হিসেবে বর্ণনা করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তবে দেশটি একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আলোচনার পথ এখনও খোলা থাকতে পারে। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একজন প্রতিনিধিসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের দেওয়া ওই প্রস্তাবটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছেন। প্রস্তাবটি কেন প্রত্যাখ্যান করা হলো? ইরানি ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন সংক্ষেপে বলতে গেলে, প্রস্তাবটিতে এমন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একটি অস্পষ্ট ও অনিশ্চিত পরিকল্পনার বিনিময়ে ইরানকে তার আত্মরক্ষার সক্ষমতা সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আলোচনার সম্ভাবনা যদিও ইরান বর্তমান প্রস্তাবটিকে একতরফা মনে করছে, তবুও তারা আলোচনার টেবিল থেকে পুরোপুরি সরে যায়নি। তেহরানের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, যদি সম্মানজনক এবং ন্যায়সঙ্গত কোনো প্রস্তাব আসে, তবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ তৈরি হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই কূটনৈতিক টানাপড়েন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রেখে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি চায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনতে। এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের মাঝে নতুন কোনো সমঝোতা হবে কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।