1. dailyprobatibangladesh@gmail.com : daily probati bangladesh : daily probati bangladesh
  2. live@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
  3. info@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ :
প্রতিকূলতার মাঝেও সুরের জয়: তরুণ তবলচি শ্রাবণ হোসেনের গল্প - দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রতিকূলতার মাঝেও সুরের জয়: তরুণ তবলচি শ্রাবণ হোসেনের গল্প ফুলগাজীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস ও মনমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ ন্যায় ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে হবে ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। ২৬ শে মার্চ এক অনুষ্ঠানে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পরশুরামে নানা আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস ও মনমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত শহীদের স্বপ্নে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ,স্বাধীনতা এদিবসে কক্সবাজারে খেলাঘরের বর্ণিল আয়োজন রৌমারীতে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ/সহ আ/টক ২ মাদারীপুরের কালকিনিতে ইউপি সদস্যের ছেলে আত্ম/হত্যা বগুড়ায় হ/ত্যা মাম/লার পলা/তক আসা/মি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফ/তার মেম্বার পদপ্রার্থী নূর মোহাম্মদ মোল্লা কেশবপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

ভিডিও সংবাদ 👇👇

প্রতিকূলতার মাঝেও সুরের জয়: তরুণ তবলচি শ্রাবণ হোসেনের গল্প

এস এম আলমগীর হুসাইন স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

এস এম আলমগীর হুসাইন স্টাফ রিপোর্টার

শৈশব থেকেই গান আর বাদ্যের প্রতি এক অদ্ভুত টান কাজ করত ছেলেটির ভেতরে। সেই ছেলেটির নাম শ্রাবণ হোসেন। আজকের এই গল্প তারই—একজন সাধারণ গ্রামের ছেলের অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প। ফরিদপুর শহরের আলিপুর গোরস্থানের উত্তর পাশে বসবাস শ্রাবণ হোসেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তান শ্রাবণ।পরিবার বা আশপাশের পরিবেশ কখনোই তার পক্ষে ছিল না। বরং ছিল নিরুৎসাহ, সন্দেহ আর বিরক্তি। কিন্তু ভেতরের আগ্রহ, নিজের প্রতি বিশ্বাস—এই দুটো জিনিসই তাকে থামতে দেয়নি। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই, শুধুমাত্র ইউটিউব দেখে একদিন সাহস করে কিনে ফেলেন একটি তবলা। সেখান থেকেই শুরু। প্রথম দিকে ছিল শুধু চেষ্টা আর ভুলের পুনরাবৃত্তি। প্রায় দেড় বছর ধরে ইউটিউব ভিডিও দেখে নিজেই শিখেছেন তবলায় হাতেখড়ি। পরে একসময় একজন ওস্তাদের শরণাপন্ন হন। সঠিক দিকনির্দেশনা পেয়ে তখন তার চর্চা পায় নতুন গতি। শ্রাবণের পথ মোটেও সহজ ছিল না। পরিবারের অসন্তোষ, মায়ের বকুনি, বাবার তাচ্ছিল্য, এমনকি প্রতিবেশীদের বিরক্তি—সবকিছু উপেক্ষা করেই প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুশীলন চালিয়ে গেছেন তিনি। অনেকেই যেখানে থেমে যায়, শ্রাবণ ঠিক সেখানেই আরও শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

শ্রাবণের সঙ্গে কথা বললে তার সংগ্রামের চিত্রটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, পথটা কখনোই সহজ ছিল না। অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি থামিনি—কারণ আমি জানতাম, আমি যদি থেমে যাই, তাহলে আমার স্বপ্নটাই থেমে যাবে। মজার বিষয় হলো, শ্রাবণের শুরুটা কিন্তু গান দিয়ে। প্রায় তিন মাস গান শেখার চেষ্টা করার পর তিনি বুঝতে পারেন, গানে নয়—তার আসল জায়গা তবলার মধ্যেই। সেই সিদ্ধান্তই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আজ ফরিদপুর শহরে অল্প বয়সী যে কজন তবলচি নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে শ্রাবণ অন্যতম। ধীরে ধীরে তিনি পরিচিতি পাচ্ছেন একজন দক্ষ বাদ্যকার হিসেবে। স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে শ্রাবণ বলেন, তবলা আমার ভালোবাসা। পেশা হিসেবে নিতেই হবে এমন কোনো চাপ নেই, কিন্তু আমি চাই সারাজীবন এটাকে ধরে রাখতে। আমি চাই একজন প্রতিষ্ঠিত বাদ্যকার হিসেবে পরিচিত হতে। বর্তমানে তিনি বাংলা ঢোল, খোল, নাল,জিপসি স্টাইলসহ বিভিন্ন ধাঁচের পারকাশন নিয়ে কাজ করছেন। নিজের দক্ষতাকে আরও বিস্তৃত করতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শ্রাবণের গল্পটা আসলে একটা বড় শিক্ষা দেয়—পরিবেশ সব সময় অনুকূলে থাকবে না, কিন্তু ইচ্ছাশক্তি যদি অটুট থাকে, তাহলে পথ তৈরি হয় নিজেই। প্রতিভা শুধু জন্মগত নয়, তা তৈরি হয় পরিশ্রম, ধৈর্য আর অদম্য চেষ্টায়। এই তরুণ তবলচির যাত্রা প্রমাণ করে, স্বপ্ন যদি সত্যিই নিজের হয়, তাহলে হাজার বাধাও তাকে থামাতে পারে না। শ্রাবণ হোসেন আজ শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি তরুণ সমাজের জন্য এক বাস্তব দৃষ্টান্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট