
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ পুনর্গঠন প্রশ্নে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বাদ মাগরিব রাজধানীর মগবাজারস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য হাফেজ বায়েজিদ বোস্তামী ও সাইদুল ইসলাম। এছাড়া ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান এবং বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার উপস্থিত হয়ে আগত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “জাতি গঠন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসলামের ঐতিহাসিক অবদান অনস্বীকার্য।” বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের আধিপত্যবাদী তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিজয় কামনা করে তিনি ইরানসহ বিভিন্ন মুসলিম সভ্যতার টিকে থাকার ঐতিহাসিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কোনো জীবন্ত সভ্যতাই কখনো একেবারে পরাজিত হয় না। বৈঠকে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ইসলামকে প্রধান মূলশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ডা. শফিকুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের প্রধান ইসলামী শক্তি ও বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জাতি তাকে ‘জাতীয় অভিভাবক’ হিসেবে দেখতে চায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সন্ত্রাসবাদী আইনে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে নিষিদ্ধ। এই শূন্যতা পূরণে ১৯৯৬ সালের পর জাতীয় সংসদের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে।” খোমেনী ইহসান সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে জামায়াত আমীরকে অনুরোধ জানান এবং এমন উদ্যোগে তার দল সক্রিয়ভাবে সাড়া দেবে বলে অঙ্গীকার করেন।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের কল্যাণে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন এই নতুন দলটির চিন্তা ও উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি আগামী দিনেও উভয় সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম লীগের পর তারা দ্বিতীয় দল হিসেবে দেশের প্রধান বিরোধী শিবিরের সঙ্গে এই বৈঠক সম্পন্ন করল।