
নান্দাইলে ইছহাক রওশন ফাউন্ডেশনের মানবিক যাত্রা শুরু, অসহায় আজিজুল হকের পাশে সহায়তার হাত
মোঃ এমদাদুল হক ভূইয়া
নান্দাইল (উপজেলা) প্রতিনিধিঃ
মানবিকতা, সহমর্মিতা আর দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে “ইছহাক রওশন ফাউন্ডেশন”। অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটি প্রথম কার্যক্রমেই ছুঁয়ে গেছে এক অসহায় মানুষের জীবন।
রবিবার (২৯ মার্চ ২০২৬) নান্দাইল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে (কাকচর) আয়োজিত এক হৃদয়স্পর্শী মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও কর্মঅক্ষম আজিজুল হকের খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই সহায়তা এককালীন নয়—বরং চলমান থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং ইছহাক রওশন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম (সূর্য)- এর সহধর্মিণী ইসরাত শামস মলি, যিনি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল করিম ভুইয়া বিপ্লব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক পৌর মেয়র এ এফ এম আজিজুল ইসলাম পিকুল, ফাউন্ডেশনের সদস্য আরীক শামস ও সায়ীক শামসসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসরাত শামস মলি বলেন, “সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ইছহাক রওশন ফাউন্ডেশন সেই দায়বদ্ধতা থেকেই যাত্রা শুরু করেছে। আজিজুল হকের মতো মানুষদের পাশে আমরা সবসময় থাকব, ইনশাআল্লাহ তাকে আমৃত্যু সহায়তা প্রদান করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি সহায়তা কর্মসূচি নয়—এটি মানবিকতার এক চলমান অঙ্গীকার। পর্যায়ক্রমে নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে রবিউল করিম ভুইয়া বিপ্লব বলেন, “আজিজুল হক প্রায় ২০ বছর ধরে কর্মঅক্ষম। গত কয়েক বছর তিনি শয্যাশায়ী অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তার এই অবস্থায় পাশে দাঁড়ানোর প্রয়াস থেকেই এই ফাউন্ডেশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। আমরা চাই, সমাজের বিত্তবানরাও এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসুক।”
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত আজিজুল হক বলেন, “আমি অনেক বছর ধরে অসুস্থ। কাজ করতে পারি না, সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে গেছে। অনেক সময় ঠিকমতো চিকিৎসাও করতে পারিনি। আজ যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন। এই সাহায্য আমার জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ।” তার কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা আর স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে আজিজুল হক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।